দীর্ঘ কয়েক দশকের রাজনৈতিক লড়াই আর টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে বাংলার মসনদে বসল ভারতীয় জনতা পার্টি। আর এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী থেকে নিজের আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না টলিউড তথা বলিউডের ‘মহাগুরু’ মিঠুন চক্রবর্তী। শুভেন্দু অধিকারীর শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি এই দিনটিকে পশ্চিমবঙ্গের জন্য এক নতুন ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে বর্ণনা করলেন।
আবেগে ভাসলেন মহাগুরু রাজ্যে প্রথমবার বিজেপি সরকার গঠিত হওয়ার পর থেকেই উৎসবের মেজাজ গেরুয়া শিবিরে। সেই আনন্দেই গা ভাসিয়ে মিঠুন চক্রবর্তী সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে বলেন, “আজকে আমাদের জিতের দিন, আনন্দের দিন। আমার কাছে আজকের দিনটা স্বাধীনতার দিন, বাংলার স্বাধীনতার দিন।” তাঁর চোখেমুখে ছিল দীর্ঘ লড়াই সার্থক হওয়ার তৃপ্তি। মিঠুন মনে করেন, এই পরিবর্তনের হাত ধরে বাংলার মানুষ এক নতুন ভোরের মুখ দেখল।
কেন এই ‘স্বাধীনতার’ বার্তা? রাজনৈতিক মহলের মতে, মিঠুন চক্রবর্তী তাঁর বক্তব্যের মাধ্যমে রাজ্যের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের পরিবর্তনের দিকেই ইঙ্গিত করেছেন। তাঁর মতে, গত কয়েক বছরের শাসনব্যবস্থা থেকে মুক্তি পেয়ে মানুষ আজ প্রাণভরে নিশ্বাস নিতে পারছে। অভিনেতা তথা বিজেপি নেতা মিঠুন প্রথম থেকেই এই পরিবর্তনের লড়াইয়ে সামনের সারিতে ছিলেন। রাজ্যের জেলায় জেলায় ঘুরে প্রচার চালিয়েছেন তিনি। আজ সেই স্বপ্ন পূরণ হওয়ায় নিজেকে আর সামলাতে পারেননি মহাগুরু।
মঞ্চে নক্ষত্র সমাবেশ এদিন রাজভবনের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কেবল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাই নন, উপস্থিত ছিলেন টলি-পাড়ার একাধিক নামী মুখ। তবে সবার নজর কেড়েছেন মিঠুনই। গেরুয়া উত্তরীয় গায়ে জড়িয়ে যখন তিনি মঞ্চে উপস্থিত হন, তখন তাঁর অনুগামীদের গর্জন ছিল দেখার মতো। মিঠুনের এই ‘স্বাধীনতার দিন’ মন্তব্যটি ইতিমধ্যেই সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়ের গতিতে ভাইরাল হয়েছে।
নতুন সরকারের এই জয়যাত্রা এবং মিঠুন চক্রবর্তীর এই জোরালো বার্তা— দুইয়ে মিলে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে এখন এক নতুন অধ্যায় শুরু হল বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।





