রাজ্যে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে যখন আইনি লড়াই তুঙ্গে, ঠিক তখনই প্রতিবাদের নয়া ভাষা বেছে নিলেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। দিন কয়েক আগেই দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনারের মুখোমুখি হয়ে ‘আমি নির্বাচিত, আপনি মনোনীত’ বলে তোপ দেগেছিলেন তিনি। এবার সাধারণ মানুষের হেনস্থা ও এসআইআর-কে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া ‘ভয়ের রাজত্ব’ নিয়ে নিজের সোশ্যাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি শক্তিশালী কবিতা পোস্ট করলেন সাংসদ।
কবিতার ভাষায় ঝাঁঝালো আক্রমণ: অভিষেক তাঁর কবিতায় সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন রাষ্ট্রের হঠকারিতা নিয়ে। তিনি লিখেছেন, “আমি অস্বীকার করি- এই হঠকারিতা, এই তালিকার শাসন, এই ভয়ের রাজত্ব।” নাগরিকত্ব এবং নথিপত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের হয়রানিকে কটাক্ষ করে তাঁর লেখনী— “আমাদের বলা হল ‘নাম দাও’, ‘কাগজ দেখাও’, আর আমরা দিলাম ইতিহাস, মাটি আর ঘাম-ঝরা জন্মভূমি।” ১৫০-র বেশি মানুষের মৃত্যুকে নিছক পরিসংখ্যান হিসেবে দেখতে নারাজ অভিষেক। তাঁর কথায়, এটি রাষ্ট্রের লাগানো আগুনে মানুষের চিৎকার।
তৃণমূল বনাম বিজেপি তরজা: অভিষেকের এই কাব্যিক প্রতিবাদকে ঘিরে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপি শিবির এই কবিতাকে বিদ্রুপ করলেও তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ পালটা আক্রমণ শানিয়েছেন। কুণাল বলেন, “অভিষেক একজন দক্ষ লেখকের মতো শক্তিশালী কলম ধরেছেন। ‘কোন ধারায় মৃত্যু বৈধ হল’—এমন লাইন সময়ের দলিল হয়ে থাকবে। বিজেপি রুচিহীন কথা বলছে কারণ এসআইআর নিয়ে মানুষের হয়রানি আর আত্মহত্যার মিছিলে তাদের গায়ের জ্বালা বাড়ছে।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পর এবার অভিষেকের এই কাব্যিক প্রতিবাদ ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এক নতুন রাজনৈতিক মাত্রা যোগ করল। অভিষেক স্পষ্ট করে দিয়েছেন, যারা এই মুহূর্তে চুপ থাকবে, ইতিহাস তাদের অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করবে।