নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনতে এবং জাল ভোট বা অন্যের নামে ভোট দেওয়ার সমস্যা চিরতরে মিটিয়ে দিতে এবার বড়সড় পদক্ষেপের দাবি উঠল। ২০২৬-এর আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনগুলির আগে ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের ‘বায়োমেট্রিক শনাক্তকরণ’ (Biometric Identification) বাধ্যতামূলক করার দাবি জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের হয়েছে। আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় এই আর্জি জানিয়ে দাবি করেছেন, শুধুমাত্র ভোটার কার্ড বা আঙুলে কালি লাগানো এখন যথেষ্ট নয়, বরং আঙুলের ছাপ এবং চোখের মণির (Iris) স্ক্যানিংয়ের মাধ্যমে প্রকৃত ভোটারকে চিহ্নিত করা হোক।
মামলাকারীর যুক্তি, ডিজিটাল ইন্ডিয়ার যুগে যখন রেশন থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক—সব ক্ষেত্রেই বায়োমেট্রিক ব্যবহার হচ্ছে, তবে গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব ‘ভোট’-এর ক্ষেত্রে কেন নয়? এই পদ্ধতিতে একজন ভোটার একবারই ভোট দিতে পারবেন এবং একজনের ভোট অন্য কেউ দেওয়ার কোনও সুযোগ থাকবে না। এর ফলে ‘ঘোস্ট ভোটার’ বা মৃত ব্যক্তিদের নামে ভোট দেওয়ার কারচুপিও বন্ধ করা সম্ভব হবে।
সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা এই আর্জিতে নির্বাচন কমিশনকেও (ECI) পক্ষভুক্ত করা হয়েছে। যদি আদালত এই আর্জি গ্রহণ করে এবং বায়োমেট্রিক ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ দেয়, তবে ভারতীয় নির্বাচনী ইতিহাসে এটি হবে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন। এর ফলে ২০২৬-এর নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ-সহ অন্যান্য রাজ্যগুলিতে ভোটগ্রহণের পদ্ধতি সম্পূর্ণ বদলে যেতে পারে। তবে গোপনীয়তা রক্ষা এবং যান্ত্রিক ত্রুটির আশঙ্কা নিয়ে পালটা প্রশ্নও উঠতে শুরু করেছে রাজনৈতিক মহলে। এখন নজর শীর্ষ আদালতের রায়ের দিকে।