আসন্ন নির্বাচনের পারদ চড়ল আরও কয়েক ধাপ। দলের নির্বাচনী ইস্তেহার প্রকাশের ঠিক আগেই বিরোধী শিবির বিশেষ করে বিজেপি-র বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধের ডাক দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আজ এক জনসভা থেকে তিনি অত্যন্ত আক্রমণাত্মক মেজাজে হুঙ্কার দিয়ে বলেন, “বাংলার মানুষকে আঘাত করলে তাঁরা প্রত্যাঘাত করতে জানে। বিজেপি-কে এমন শিক্ষা দিন যাতে তারা আর বাংলার দিকে চোখ তুলে তাকানোর সাহস না পায়।”
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই কড়া বার্তা রাজনৈতিক মহলে শোরগোল ফেলে দিয়েছে। এদিন তিনি কেন্দ্রের বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ তুলে আরও সরব হন। তিনি দাবি করেন, বাংলার প্রাপ্য টাকা আটকে রেখে বাংলার মানুষকে ভাতে মারার চক্রান্ত করছে দিল্লি। একশো দিনের কাজ থেকে শুরু করে আবাস যোজনার টাকা—সব ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় সরকার বিমাতৃসুলভ আচরণ করছে বলে তোপ দাগেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রী পরিষ্কার জানিয়ে দেন, “বাঙালির আবেগে আঘাত করলে বাংলার মানুষ তার জবাব ব্যালট বক্সে দেবে।”
ইস্তেহার প্রকাশের আগে এই মন্তব্যকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। একদিকে যখন বিজেপি উন্নয়নের ডবল ইঞ্জিন সরকারের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে, তখন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা ‘বাংলার হুকুমদারি’ এবং ‘অস্মিতা’র লড়াইকে হাতিয়ার করছেন। এদিন তিনি কেবল রাজনৈতিক আক্রমণেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং কর্মীদের বুথ স্তরে শক্তিশালী হওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, অতীতেও বহুবার বাংলাকে দাবিয়ে রাখার চেষ্টা হয়েছে, কিন্তু বাংলার মানুষ মাথা নত করেনি। বিজেপি-র ‘বহিরাগত’ তকমা এবং হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির বিপরীতে দাঁড়িয়ে তৃণমূল নেত্রী এদিন উন্নয়ন ও প্রতিরোধের বার্তা মিলিয়ে মিশিয়ে এক নতুন রণকৌশল তুলে ধরলেন।