আইপ্যাক ডিরেক্টর শ্রীঘরে যেতেই স্বমহিমায় দিলীপ! কয়লা-বালি চুরির টাকা কোথায় যেত? বিস্ফোরক পর্দা ফাঁস

বাংলায় বিধানসভা নির্বাচনের পারদ যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আইপ্যাক (I-PAC) ডিরেক্টর ভিনেশ চান্দেলের গ্রেফতারি নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে কার্যত পরমাণু বিস্ফোরণ ঘটালেন দিলীপ ঘোষ। খড়গপুর সদরের বিজেপি প্রার্থী এদিন স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিলেন, আইপ্যাক ডিরেক্টরের গ্রেফতারি আদতে হিমশৈলের চূড়ামাত্র। আসল খেলা শুরু হবে ৪ মে-র পর, যখন বাংলার রাঘববোয়াল রাজনৈতিক নেতারা কেন্দ্রীয় সংস্থার জালে ধরা পড়বেন।

খড়গপুরে এক নির্বাচনী সভায় যোগ দিয়ে দিলীপ ঘোষ বলেন, “বাংলায় দীর্ঘদিন ধরে কয়লা চুরি, বালি চুরি আর গরু পাচার চলছে। এই চুরির হাজার হাজার কোটি টাকা কোথায় যায়? সবটাই রাজনীতিতে ঢোকানো হয় নির্বাচন জেতার জন্য। আজ ইডি আইপ্যাকের ডিরেক্টরকে ধরেছে, এটা তো সবে শুরু। এরপর হেভিওয়েটদের পালা।” তিনি আরও যোগ করেন, আগে থেকেই অনুব্রত মণ্ডল, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিকের মতো নেতারা দুর্নীতির দায়ে জেল খাটছেন। এবার আইপ্যাকের মাধ্যমে যে টাকার লেনদেন হয়েছে, তার শিকড় অনেক গভীরে।

উল্লেখ্য, ইতিপূর্বে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে ইডি অভিযান ঘিরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হস্তক্ষেপ নিয়ে বড়সড় বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি গড়িয়েছে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত। সেই প্রসঙ্গ টেনে দিলীপ ঘোষ দাবি করেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলেই দুর্নীতির উৎস খুঁজে বের করা হবে। তাঁর কথায়, “টাকার ভাগ-বাঁটোয়ারা নিয়ে রাজ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হচ্ছে, সাধারণ মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন। কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর উচিত এদের মাথাদের খুঁজে বের করা। ৪ মে-র পর বাংলায় বিজেপি সরকার গড়লেই দুর্নীতিবাজদের জায়গা হবে শ্রীঘরে।” রাজনৈতিক মহলের মতে, নির্বাচনের মুখে দিলীপের এই ‘হেভিওয়েট’ হুঁশিয়ারি শাসক শিবিরের ওপর বাড়তি মনস্তাত্ত্বিক চাপ সৃষ্টি করল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy