আইনের মারপ্যাঁচে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা নতুন কিছু নয়, কিন্তু আইনি নথি জাল করে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত খুনের আসামিকে জেল থেকে বার করে আনার ঘটনা সচরাচর দেখা যায় না। এমনই এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হলেন এক আইনজীবী। খুনের আসামিকে ৩ বছর জেলমুক্ত রাখার পর অবশেষে পর্দাফাঁস হতেই পুলিশের জালে ধরা পড়লেন সেই আইনের কারিগর।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: তদন্তে জানা গিয়েছে, ধৃত আইনজীবী এক খুনের আসামির হয়ে মামলা লড়ছিলেন। ওই আসামি যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা পেয়ে সংশোধনাগারে দিন কাটাত। কিন্তু তাকে মুক্ত করার কোনো আইনি রাস্তা না পেয়ে ওই আইনজীবী আদালতের উচ্চপর্যায়ের জামিনের নথি এবং নির্দেশনামা জাল করেন। সেই জাল নথি জেল কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দিয়ে অত্যন্ত চাতুর্যের সাথে আসামিকে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনেন তিনি।
৩ বছর পর যেভাবে ধরা পড়ল জালিয়াতি: জেলমুক্ত হওয়ার পর ওই আসামি গত তিন বছর ধরে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল। সম্প্রতি আদালতের পুরনো নথিপত্র এবং জামিন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই (Scrutiny) করার সময় রেজিস্টারের সাথে ওই নির্দেশের মিল পাওয়া যায়নি। তড়িঘড়ি তদন্ত শুরু করতেই বেরিয়ে আসে বিস্ফোরক তথ্য। দেখা যায়, যে জামিনের আদেশে আসামি বাইরে ঘুরছে, সেটি আসলে তৈরিই হয়নি।
আইনজীবীর পরিণতি: জালিয়াতি ধরা পড়ার পরেই পুলিশ ওই আইনজীবীকে গ্রেপ্তার করেছে। তাঁর বিরুদ্ধে:
সরকারি নথি জাল করা (Forgery of documents)
আদালতকে বিভ্রান্ত করা
অপরাধীকে আশ্রয় দেওয়া এবং পালাতে সাহায্য করার মতো একাধিক জামিন অযোগ্য ধারায় মামলা রুজু হয়েছে।
আদালতের পর্যবেক্ষণ: এই ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা। তাঁদের মতে, বিচারব্যবস্থার ওপর মানুষের যে আস্থা রয়েছে, এই ধরণের ঘটনা তাকে কালিমালিপ্ত করে। বার কাউন্সিলের পক্ষ থেকেও ওই আইনজীবীর সদস্যপদ খারিজের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।
এদিকে, ৩ বছর পর খুনের আসামিকে পুনরায় গ্রেপ্তার করে সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে। আইনের রক্ষক হয়েও কীভাবে এমন জালিয়াতির সাহস তিনি পেলেন, তার পেছনে অন্য কোনো বড় চক্র কাজ করছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।





