দেশ পরিচালনার মূল চালিকাশক্তি হলো অর্থনীতি। আর সেই অর্থনীতির মাপকাঠিতে কে এগিয়ে—দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু, নাকি বর্তমান প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি? স্বাধীনতার পর থেকে ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নের দীর্ঘ যাত্রা বিশ্লেষণ করলেই মিলবে সেই উত্তরের হদিস।
দুই যুগের ভিন্ন চ্যালেঞ্জ: ১৯৪৭ সালে যখন জওহরলাল নেহরু দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন ভারত সদ্যজাত। দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং দেশভাগের ক্ষত ছিল নিত্যসঙ্গী। নেহরুর লক্ষ্য ছিল রাষ্ট্রমালিকানাধীন ভারী শিল্পের মাধ্যমে অর্থনীতির কাঠামো তৈরি করা। অন্যদিকে, ২০১৪ সালে নরেন্দ্র মোদি যখন ক্ষমতায় আসেন, ভারত তখন বিশ্বের একটি প্রতিষ্ঠিত শক্তিশালী অর্থনীতি। বিশ্বায়নের যুগে মোদির সামনে চ্যালেঞ্জ ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন—প্রযুক্তি-নির্ভর অর্থনীতিতে ভারতকে বিশ্বের প্রথম সারির রাষ্ট্রে পরিণত করা।
কর্মসংস্থানের নতুন সমীকরণ: নেহরু যুগের ভারী শিল্পের ধারণা সময়ের সাথে বদলেছে। আজকের যুগে কর্মসংস্থানের মূল উৎস হয়ে উঠেছে সার্ভিস সেক্টর এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প (MSME)। ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী, ভারতের কর্মসংস্থানের ৩২ শতাংশই আসে সার্ভিস সেক্টর থেকে। অটোমেশন ও প্রযুক্তির উৎকর্ষের যুগে মোদি সরকার জোর দিয়েছে ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের ওপর। আমুলের মতো সমবায় সংস্থাকে শক্তিশালী করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন জোয়ার আনার চেষ্টা করছেন তিনি।
বৈশ্বিক ভারসাম্য ও ভারতের লড়াই: নেহরুর আমলে চ্যালেঞ্জ ছিল মূলত অভ্যন্তরীণ, কিন্তু মোদির চ্যালেঞ্জ বহুমুখী। একদিকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, অন্যদিকে আমেরিকা ও ইউরোপের মতো বড় অর্থনীতির সাথে বাণিজ্যের ভারসাম্য বজায় রাখা। ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও ভারতের অর্থনীতিকে সুরক্ষিত রাখাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে কৃষি এবং স্বনির্ভরতার ওপর বিশেষ জোর দিচ্ছে মোদি সরকার।





