অভিষেকের সম্পত্তির নথিতে গড়মিল? ২৪ দিন পার, এবার কড়া পদক্ষেপের পথে কলকাতা পুরসভা!

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পত্তির বৈধতা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। কলকাতা পুরসভার নোটিস দেওয়ার ২৪ দিন অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা না দেওয়ায় অস্বস্তি বাড়ছে। পুরসভা সূত্রে খবর, এ বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নতুন করে আর কোনো বাড়তি সময় দেওয়া হবে না। এবার সরাসরি কঠোর আইনি পদক্ষেপের পথে হাঁটতে চলেছে কলকাতা পুরসভার বিল্ডিং বিভাগ।

সূত্রের খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর পরিবারের ১৭টি সম্পত্তির প্রতিটি খুঁটিনাটি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অনুমোদনহীন বা নকশা বহির্ভূত নির্মাণ কোন কোন অংশে হয়েছে, তা চিহ্নিত করে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট তৈরি করা হয়েছে। এই রিপোর্ট শীঘ্রই পুর প্রশাসক ও নগরোন্নয়ন দপ্তরের কাছে জমা দেওয়া হবে। রাজ্য সরকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত সবুজ সংকেত পাওয়ার পরই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে পুরসভা সূত্রের দাবি। যদিও এ বিষয়ে পুরসভার শীর্ষ কর্তৃপক্ষ সরাসরি কোনো মন্তব্য করতে নারাজ। পুর প্রশাসক স্মিতা পান্ডে বিষয়টি আদালতের বিচারাধীন উল্লেখ করে আপাতত এই নিয়ে নীরবতা পালন করছেন।

ঘটনার সূত্রপাত গত ২০ মে, যখন কলকাতা পুরসভার কর্মীরা কালীঘাট রোডের বাড়িতে নোটিস নিয়ে পৌঁছন। অভিযোগ ছিল, অনুমোদিত নকশার বাইরে গিয়ে একাধিক নির্মাণ করা হয়েছে। এরপর ৩ জুন কলকাতা হাইকোর্টের অবকাশকালীন বেঞ্চের বিচারপতি স্মিতা দাস দে এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দেন। আদালত স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, সাত দিনের মধ্যে পুরসভাকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে যে, সাংসদের হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়ি এবং ‘লিপ্‌স অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার সম্পত্তির কোন কোন অংশ বেআইনি নির্মাণের আওতায় পড়ছে।

পুরসভার এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, হরিশ চ্যাটার্জি স্ট্রিটের বাড়িটি সম্পূর্ণ বৈধভাবে তৈরি করা হয়েছে। ইতিপূর্বে অভিষেক নিজেই সংবাদমাধ্যমের সামনে এই নোটিস নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তাঁর প্রশ্ন ছিল, কোন অংশটি অবৈধ, তা নোটিসে স্পষ্ট করা হয়নি। নির্দিষ্ট বিচ্যুতি না জানালে জবাব দেওয়া অসম্ভব, এই যুক্তিতেই তিনি আইনি সুরক্ষাকবচ চেয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

রাজনৈতিক মহলের মতে, রাজ্যের প্রভাবশালী নেতার সম্পত্তির নথিপত্র নিয়ে পুরসভার এই লড়াই এখন আইনি গোলকধাঁধায় আটকে পড়েছে। কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশের পর বল এখন পুরসভার কোর্টে। রাজ্য সরকার ও পুরসভা কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে কী রিপোর্ট পেশ করে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে রাজ্যের বিরোধী দল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ। ২৪ দিনের দীর্ঘ সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুরসভা কি এবার সরাসরি ভাঙার কাজে হাত দেবে, নাকি আইনি জটিলতায় বিষয়টি আরও দীর্ঘায়িত হবে— সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy