‘অবাধ ভোট কি সম্ভব?’ বাংলায় নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বিস্ফোরক সংশয় কমিশনের ফুল বেঞ্চের!

২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে বাংলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং অবাধ নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করল ভারতের নির্বাচন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সোমবার কলকাতায় রাজ্য প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ বৈঠকের পর কমিশনের তরফে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, রাজ্যে বর্তমানে ভীতিহীন ও নিরপেক্ষ ভোট করানোর মতো উপযুক্ত পরিবেশের অভাব রয়েছে। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের নেতৃত্বে আসা ফুল বেঞ্চ এই বিষয়ে রাজ্য পুলিশ ও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের কঠোর বার্তা দিয়েছে।

বৈঠক সূত্রে খবর, রাজনৈতিক হিংসা, ভোটারদের ভয় দেখানো এবং স্পর্শকাতর বুথগুলোতে নিরাপত্তার অভাব নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে কমিশন। জ্ঞানেশ কুমার স্পষ্ট জানিয়েছেন, নির্বাচনে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা অর্থের প্রভাব বরদাস্ত করা হবে না। তিনি সাফ বলেন, “নির্বাচন কমিশনের কাছে হিংসার কোনো জায়গা নেই। আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে বিশ্বাসী।” সিইসি-র এই কড়া মেজাজ দেখে রাজনৈতিক মহলের ধারণা, ভোট ঘোষণার আগেই কেন্দ্রীয় বাহিনীর বড়সড় মোতায়েন এবং প্রশাসনের রদবদল সময়ের অপেক্ষা মাত্র।

কমিশন আরও জানিয়েছে, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থা ফেরাতে প্রতিটি পদক্ষেপ ডিজিটাল নজরদারিতে থাকবে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর এলাকাগুলোতে রুট মার্চ এবং নাকা তল্লাশির কাজ আরও দ্রুত শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাজ্য প্রশাসনের একাংশের পক্ষপাতদুষ্ট আচরণের যে অভিযোগ উঠেছে, তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে কমিশন জানিয়েছে—যদি কোনো আধিকারিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হন, তবে তাঁর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ২০২৬-এর লড়াই যে নির্বাচন কমিশনের কড়া পাহারায় হতে চলেছে, এদিনের বৈঠকের সুরেই তা পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy