চাকরি থেকে অবসরের পর আর্থিক নিরাপত্তা নিয়ে দুশ্চিন্তার দিন শেষ। প্রবীণ নাগরিকদের জন্য কেন্দ্র সরকারের ‘সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম’ (SCSS) বর্তমানে বিনিয়োগের বাজারে রীতিমতো হইচই ফেলে দিয়েছে। যেখানে অনেক বড় ব্যাঙ্কেও সুদের হার সীমিত, সেখানে এই সরকারি প্রকল্পে মিলছে অবিশ্বাস্য ৮.২% সুদ।
কারা পাবেন এই মোটা টাকা আয়ের সুযোগ?
এই প্রকল্পে বিনিয়োগের প্রাথমিক শর্ত হলো বয়স ৬০ বছর বা তার বেশি হতে হবে। তবে কিছু বিশেষ ক্ষেত্র রয়েছে:
স্বেচ্ছাবসর (VRS): ৫৫ থেকে ৬০ বছরের মধ্যেও আবেদন করা সম্ভব, যদি অবসর গ্রহণের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে টাকা জমা দেওয়া হয়।
প্রতিরক্ষা কর্মী: প্রাক্তন সেনাকর্মীদের জন্য বয়সের বিশেষ ছাড় রয়েছে।
বিনিয়োগের অংক ও মাসিক আয়ের পথ
এই স্কিমটি এমনভাবে সাজানো হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষ ১০০০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করতে পারেন। আপনি একাধিক অ্যাকাউন্ট খুলতে পারেন, তবে মোট বিনিয়োগ যেন ৩০ লক্ষের গণ্ডি না পেরোয়। এই স্কিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, প্রতি তিন মাস অন্তর (কোয়ার্টারলি) সুদের টাকা বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা পড়ে, যা অবসরপ্রাপ্তদের জন্য একটি নিয়মিত আয়ের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
ট্যাক্স বাঁচবে আবার মেয়াদও বাড়বে!
বিনিয়োগকারীরা এই প্রকল্পে ইনকাম ট্যাক্স আইনের ৮০C ধারায় বার্ষিক ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত কর ছাড়ের সুবিধা পাবেন।
মেয়াদ: প্রাথমিকভাবে ৫ বছর।
এক্সটেনশন: চাইলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আরও ৩ বছর বাড়ানো যায়।
আগাম টাকা তোলা: জরুরি প্রয়োজনে টাকা তোলা সম্ভব, তবে মেয়াদের আগে টাকা তুললে ১% থেকে ১.৫% জরিমানা কাটা হতে পারে।
“ঝুঁকিমুক্ত বিনিয়োগ এবং নিশ্চিত আয়ের জন্য এই মুহূর্তে দেশের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য মাধ্যম হলো সিনিয়র সিটিজেন সেভিংস স্কিম।” — আর্থিক বিশেষজ্ঞ
নিরাপদ ভবিষ্যৎ আর নিয়মিত আয়ের জন্য যারা সেরা পথ খুঁজছেন, তাদের জন্য ৩০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের এই সুযোগ সত্যিই হাতছাড়া করা উচিত নয়। তবে মনে রাখবেন, বছরে সুদের পরিমাণ নির্দিষ্ট সীমা পেরোলে টিডিএস (TDS) প্রযোজ্য হতে পারে।





