আরজি কর মেডিকেল কলেজের আর্থিক দুর্নীতি মামলায় দীর্ঘ নাটকীয়তার পর অবশেষে আলিপুরের বিশেষ সিবিআই আদালতে আত্মসমর্পণ করতে পৌঁছালেন হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপার আখতার আলি। গত শুক্রবার আদালত তাঁর বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা (NBW) জারি করার পর থেকেই তাঁর অবস্থান নিয়ে ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছিল। অসুস্থতার কারণে নার্সিংহোমে ভর্তি থাকলেও, মঙ্গলবার সশরীরে আদালতে হাজির হলেন তিনি।
উল্লেখ্য, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে আখতার আলিই প্রথম কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁর অভিযোগের ভিত্তিতেই সিবিআই তদন্ত শুরু করে এবং সন্দীপ ঘোষকে গ্রেফতার করে। তবে তদন্ত এগোতেই সিবিআই চার্জশিটে উঠে আসে খোদ অভিযোগকারী আখতার আলির নামও। টেন্ডার পাইয়ে দেওয়ার বিনিময়ে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে গত ২ ডিসেম্বর তাঁর বিরুদ্ধে চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। সম্প্রতি হাইকোর্ট তাঁর আগাম জামিনের আবেদন খারিজ করে দেওয়ায় বিপদ বাড়ে আখতারের।
গত শুক্রবার আদালতে আখতার আলির আইনজীবী তাঁর অসুস্থতার কারণ দেখালেও সিবিআই ও সন্দীপ ঘোষের আইনজীবীরা একে ‘গ্রেফতারি এড়ানোর কৌশল’ বলে দাবি করেন। বিচারকও সেই যুক্তিতে সন্তুষ্ট না হয়ে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতারের নির্দেশ দিয়েছিলেন। মঙ্গলবার আদালতে পৌঁছানোর আগে আখতার দাবি করেন, তিনি নির্দোষ এবং ২০২০ সালের পুরনো এক ব্যক্তিগত ঋণের বিষয়কে দুর্নীতির রূপ দেওয়া হচ্ছে। এখন দেখার, আলিপুর আদালত তাঁকে আত্মসমর্পণের অনুমতি দেয় নাকি সিবিআই তাঁকে সরাসরি হেফাজতে নেয়।