অনৈতিক’ চাকরি বাম জমানাতেও! হাইকোর্টে বিস্ফোরক তথ্যে অস্বস্তিতে বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের মন্ত্রক

নিয়োগ দুর্নীতি নিয়ে রাজ্য রাজনীতি যখন গত কয়েক বছর ধরে উত্তাল, ঠিক তখনই এক নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণে বাম জমানার শিক্ষা দফতরের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলল কলকাতা হাইকোর্ট। বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নেতৃত্বাধীন তৎকালীন বাম সরকারের আমলে শিক্ষা দফতরে ‘অনৈতিক’ ও ‘বেআইনি’ নিয়োগ হয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর মন্তব্য করেছেন বিচারপতি। বিশেষ করে ‘তিথি অধিকারী’ নামক এক প্রার্থীর নিয়োগ ঘিরে তৈরি হয়েছে বড়সড় রহস্য।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, বাম জমানাতেও যোগ্য প্রার্থীদের বঞ্চিত করে প্রভাবশালী যোগে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। এই মামলার পরিপ্রেক্ষিতে আদালত জানিয়েছে, দুর্নীতির শিকড় অনেক গভীরে। প্রশ্ন উঠেছে, তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর অজান্তে কি এই ধরনের নিয়োগ সম্ভব ছিল? এই মন্তব্যের পরই জল্পনা শুরু হয়েছে যে, তবে কি এবার বাম জমানার শিক্ষামন্ত্রীর বিরুদ্ধেও তদন্তের নির্দেশ দিতে পারে আদালত?

কে এই তিথি অধিকারী? মামলা সূত্রে জানা গিয়েছে, তিথি অধিকারীর নিয়োগ প্রক্রিয়ায় বড়সড় গরমিল পাওয়া গিয়েছে। কোনো রকম স্বচ্ছ পরীক্ষা বা মেধা তালিকা ছাড়াই তাঁকে নিয়োগ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। আদালতের নির্দেশে এখন খতিয়ে দেখা হচ্ছে তাঁর নিয়োগের নথিপত্র। যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে বাম জমানার নিয়োগ পদ্ধতিও যে বড়সড় প্রশ্নের মুখে পড়বে, তা বলাই বাহুল্য।

তৃণমূল কংগ্রেস এই ইস্যুকে হাতিয়ার করে পালটা আক্রমণে নেমেছে। তাদের দাবি, “যারা আজ দুর্নীতির কথা বলছে, তাদের আমলেই দুর্নীতির হাতেখড়ি হয়েছিল।” অন্যদিকে, বাম নেতৃত্ব এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে। তবে আদালতের কড়া মন্তব্যের পর রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। দুর্নীতির দায় যে কেবল বর্তমান সরকারের নয়, বরং আগের সরকারের আমলেও এমন ঘটনা ঘটেছে— হাইকোর্টের এই ইঙ্গিত ২০২৬-এর নির্বাচনের আগে বামেদের জন্য বড় অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়াল।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy