২০লে বিধানসভা নির্বাচনের দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষে এক নজিরবিহীন আত্মবিশ্বাস ধরা পড়ল তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গলায়। বুধবার ভবানীপুরে নিজের ভোট দেওয়ার পর মমতা সাফ জানিয়ে দিলেন, কেন্দ্রীয় বাহিনীর প্রবল ‘অত্যাচার’ এবং ‘গন্ডগোল’ সত্ত্বেও রাজ্যে তৃণমূল কংগ্রেস ২০০-র বেশি আসন নিয়ে ফের ক্ষমতায় ফিরছে। তাঁর দাবি, জনতাই হবে জনার্দন, আর বাহিনীর ভয় দেখিয়ে মানুষের রায় বদলানো যাবে না।
বাহিনীর বিরুদ্ধে নজিরবিহীন আক্রমণ: এদিন ভোট পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী সরাসরি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে তোপ দেগে বলেন:
জুলুমের অভিযোগ: মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, অনেক জায়গায় ভোটারদের ভয় দেখানো হয়েছে এবং তৃণমূল কর্মীদের ওপর শারীরিক নির্যাতন চালিয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনী।
বিজেপির পক্ষ নেওয়ার অভিযোগ: তাঁর কথায়, “বাহিনী নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের স্বার্থে কাজ করছে। এত গন্ডগোল আর অত্যাচারের পরও মানুষ কিন্তু নির্ভয়ে বুথে গিয়েছেন।”
দুই-তৃতীয়াংশ জয়ের আশা: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, বাংলার মানুষ উন্নয়নের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেন:
“ওরা (বিজেপি) ভেবেছিল বাহিনীকে ব্যবহার করে আমাদের আটকে দেবে। কিন্তু আমি বলছি, আমরা দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জিতে ফের সরকার গড়ব। তৃণমূল এবার ২০০-র গণ্ডি পার করে দেবে।”
বিজেপির পাল্টা জবাব: মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্যের প্রেক্ষিতে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী পালটা দাবি করেছেন, “মুখ্যমন্ত্রী বুঝতে পেরেছেন তাঁর পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গিয়েছে। তাই পরাজয়ের দায় বাহিনীর ওপর চাপানোর জন্য এখন থেকেই চিত্রনাট্য তৈরি করছেন।”
ভোটের শেষে উত্তপ্ত পরিস্থিতি: বিকেল গড়াতেই ক্যানিং, ফলতা এবং মেদিনীপুরের বিভিন্ন এলাকা থেকে অশান্তির খবর এসেছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বাহিনীকে ঢাল করে বিজেপি অনেক বুথ দখলের চেষ্টা করেছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ‘২০০ পার’ করার দাবি তৃণমূল কর্মীদের মধ্যে নতুন করে অক্সিজেন জুগিয়েছে। এখন ৪ মে-র ব্যালট বাক্সের লড়াইয়ে শেষ হাসি কে হাসেন, সেদিকেই তাকিয়ে গোটা বাংলা।





