পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা সংশোধন বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশনকে তীব্র আক্রমণ করল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার, ১ এপ্রিল ২০২৬-এ এক শুনানির সময় শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়াকে ‘অত্যন্ত পীড়াদায়ক’ এবং ‘নির্মম’ বলে অভিহিত করেছে। প্রায় ১.৩৬ কোটি মানুষের ভোটাধিকার নিয়ে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এবং সাধারণ মানুষের ওপর যে ‘মানসিক চাপ’ (Stress and Strain) সৃষ্টি করা হয়েছে, তাতে চরম অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিচারপতিরা।
আদালতে পেশ করা তথ্যে জানা গিয়েছে, প্রায় ১ কোটি ২৫ লক্ষ ভোটারের নামের পাশে ‘লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি’ বা যৌক্তিক অসঙ্গতির তকমা লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে এমন অনেক উদাহরণ রয়েছে যা কার্যত অবাস্তব—যেমন বাবা-মায়ের সঙ্গে সন্তানের বয়সের ব্যবধান মাত্র ১৫ বছরের কম দেখানো বা একজনের ৬টির বেশি সন্তান থাকা। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, কোনো বিধিবদ্ধ আইন ছাড়াই কমিশন নিজের মর্জিমাফিক নতুন মানদণ্ড তৈরি করে নাগরিকদের প্রোফাইলিং করছে, যা আইনত গ্রহণযোগ্য নয়।
সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছে যে, শুধুমাত্র যান্ত্রিক ত্রুটির অজুহাতে কারোর নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যাবে না। প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যক্তিগত শুনানি এবং স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে। সাধারণ মানুষের হয়রানি কমাতে গ্রাম পঞ্চায়েত ও ব্লক স্তরে তালিকা প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০২৬-এর মহাযুদ্ধের আগে আদালতের এই ‘রাফ অ্যান্ড টাফ’ অবস্থান আদতে ভোটারদের অধিকার রক্ষার কবচ হয়ে দাঁড়াল, যা রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের দাবিরই নৈতিক জয় বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।





