রাজ্য রাজনীতিতে বর্তমানে ভাঙাগড়ার খেলা চলছে। শাসক দলের অন্দরে তৈরি হওয়া ফাটল আর দলবদলের ডামাডোলের মধ্যেই এক অত্যন্ত ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দিয়ে বঙ্গ রাজনীতির অলিন্দে জল্পনার পারদ চড়িয়ে দিলেন কামারহাটির দাপুটে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র। বুধবার গভীর রাতে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর করা একটি পোস্ট ঘিরে এখন রাজনৈতিক মহলে রীতিমতো তোলপাড় শুরু হয়েছে।
বুধবার গভীর রাতে নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে মদন মিত্র লিখেছেন, ‘লার্নিং অফ দ্য ডে: আনইনস্টল ইয়োর পাস্ট, আপডেট ইয়োর ফিউচার’। যার সহজ অর্থ—অতীতকে মুছে ফেলে ভবিষ্যৎকে নতুন করে সাজাও। এই একটি বাক্য ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে হাজারো প্রশ্নের জন্ম হয়েছে। প্রশ্ন উঠছে, তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একনিষ্ঠ সৈনিক মদন মিত্র কি এবার ‘বেসুরো’ গাইতে শুরু করলেন? নাকি এর নেপথ্যে লুকিয়ে রয়েছে অন্য কোনো গভীর রাজনৈতিক সমীকরণ?
বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে এই পোস্টটিকে নিছক কোনো সাধারণ সোশ্যাল মিডিয়া আপডেট হিসেবে দেখতে নারাজ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। বর্তমানে রাজ্যের শাসক দল এক অভূতপূর্ব সংকটের মুখে। বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি অনুযায়ী, শাসক দলের বিক্ষুব্ধ বিধায়ক সংখ্যা ইতোমধ্যে ৬৫-তে পৌঁছেছে। বিরোধী শিবিরের এই দাবি এবং মদন মিত্রের ‘ভবিষ্যৎ আপডেট’ করার বার্তার মধ্যে যোগসূত্র খুঁজছেন অনেকে। জল্পনা ছড়িয়েছে, তবে কি রাজনীতির পুরনো অধ্যায় মুছে ফেলে সেই ৬৫তম বিধায়ক হিসেবে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরেই নাম লেখাতে চলেছেন খোদ মদন মিত্র?
অথচ সাম্প্রতিক ঘটনাবলীর দিকে নজর রাখলে ভিন্ন একটি চিত্র ফুটে ওঠে। এই চরম সংকটের দিনেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঢাল হিসেবে দাঁড়িয়েছিলেন মদন মিত্র। নিয়মিত সাংগঠনিক বৈঠকে অংশগ্রহণ এবং তৃণমূল পার্টি অফিসে সিআইডি-র তল্লাশি অভিযানের সময় মমতার পাশেই দেখা গিয়েছিল তাঁকে। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দিল্লি থেকে ফেরার পরও তাঁকে দলীয় অফিসে দেখা গিয়েছিল। এত কিছুর পর হঠাৎ রাতের এই রহস্যময় পোস্ট দলের শীর্ষ নেতৃত্বের কপালেও চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই বার্তার অর্থ কেবলই দলবদল নয়। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যেভাবে পরিস্থিতি সামাল দিতে জাতীয় কংগ্রেসের সঙ্গে নতুন জোটের পথে হাঁটতে পারেন বলে জল্পনা তৈরি হয়েছে, কামারহাটির বিধায়কের এই পোস্টটি হয়তো সেই নতুন জোট-সমীকরণের দিকেই ইঙ্গিত করছে। অর্থাৎ, কংগ্রেসের সঙ্গে অতীতের তিক্ততাকে ‘আনইনস্টল’ করে নতুন ভবিষ্যতের পথে ‘আপডেট’ করার বার্তাই তিনি দিতে চেয়েছেন।
মদন মিত্র অবশ্য তাঁর পোস্ট নিয়ে এখনও কোনো প্রকাশ্যে মন্তব্য করেননি। তাঁর এই নীরবতা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে। রাজ্য রাজনীতির এই টালমাটাল অবস্থায় দীর্ঘদিনের বিশ্বস্ত মমতাপন্থী নেতাদের আগামী দিনের অবস্থান ঠিক কী হয়, সেদিকেই এখন তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে ওয়াকিবহাল মহলের। তবে মদন মিত্রের এই ‘ভবিষ্যৎ আপডেট’ শেষ পর্যন্ত বাংলার রাজনীতিকে কোন মোড় নেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।





