অনেক বাবা-মা ভাবেন, আজ দুপুরে শিশুটি না ঘুমালে কী আর এমন ক্ষতি হবে? কিন্তু নিউরোসায়েন্সের গবেষণা বলছে, চার বছরের কম বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে দুপুরের ঘুম বা ‘ন্য্যাপ’ মিস করা মোটেও ছোট বিষয় নয়। এটি শিশুর মস্তিষ্ককে এমন এক চাপের মধ্যে ফেলে দেয়, যাকে বিজ্ঞানীরা বলেন ‘ফাইট-অর-ফ্লাইট রেসপন্স’— যা সাধারণত মানুষ বড় কোনো বিপদে পড়লে অনুভব করে।
শরীর কেন ‘বিপদ’ মনে করে? ছোট শিশুরা বড়দের মতো দীর্ঘ সময় জেগে থাকার ক্ষমতা রাখে না। নির্দিষ্ট সময়ের বেশি জেগে থাকলে তাদের শরীর সেটাকে জীবন-মরণের সংকট হিসেবে নেয়। তখন শরীরে কর্টিসল ও অ্যাড্রেনালিন নামের স্ট্রেস হরমোন হু হু করে বেড়ে যায়। এই হরমোনগুলো শিশুকে কৃত্রিমভাবে জাগিয়ে রাখে, ফলে শিশু অতিরিক্ত চঞ্চল বা অকারণে হাসিখুশি হয়ে ওঠে। অনেক বাবা-মা একে শিশুর ‘উদ্যম’ মনে করে ভুল করেন। আসল সমস্যা হলো, কর্টিসল বাড়লে ঘুমের হরমোন মেলাটোনিন তৈরি হতে পারে না। ফলে শিশু ক্লান্ত হলেও তার জন্য ঘুমানো অসম্ভব হয়ে পড়ে।
আবেগ ও মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব: হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের গবেষণায় দেখা গেছে, ঘুম মিস করা শিশুরা ছোট ছোট বিষয়েই প্রচণ্ড রেগে যায়। তাদের মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশটি তখনও অপরিণত থাকে, যা ঘুমের অভাবে আরও দুর্বল হয়ে পড়ে। গবেষকরা একে বলেন ‘ভলকানো ইফেক্ট’— যেখানে দিনের শেষে জমে থাকা ক্লান্তি হঠাৎ বিস্ফোরণের মতো কান্না বা চিৎকারের মাধ্যমে বেরিয়ে আসে।
বাবা-মায়ের করণীয়: বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুর দুপুরের ঘুম হলো মস্তিষ্কের জন্য একটি ‘রিসেট বাটন’। এটি না হলে শিশুর শেখার ক্ষমতা ও মনোযোগ কমে যায়। তাই শিশুকে জোর করে জাগিয়ে না রেখে নির্দিষ্ট রুটিন মেনে ঘুমের অভ্যাস করানোই বুদ্ধিমত্তার কাজ। মনে রাখবেন, ঘুম মানে শুধু বিশ্রাম নয়, এটি আপনার সন্তানের সুস্থ মানসিক বিকাশের চাবিকাঠি।