বয়স ৩০ পেরিয়ে গেছে, পিছু নিতে পারে প্রাণঘাতী হৃদরোগ! এড়িয়ে গেলেই বাড়বে বিপদ

হার্ট হল শরীরের পাম্প। এই অঙ্গটি অক্সিজেন ও পুষ্টিসমৃদ্ধ রক্তকে গোটা দেহে পৌঁছে দেয়। এর মাধ্যমেই দেহের প্রতিটি কোষ বেঁচে থাকার রসদ পায়। তাই এই অঙ্গটিকে সুস্থ রাখতেই হবে। নইলে যে বড় বিপদ!
তবে আমাদের বেশকিছু ভুলভ্রান্তি এই অঙ্গের উপর গুরুতর আঘাত হানে। এক্ষেত্রে জীবনযাত্রা ও ডায়েটজনিত বদভ্যাসই মূলত সমস্যার কারণ। তাই যেন তেন প্রকারেণ এই সকল বদভ্যাস থেকে মুক্ত হয়ে সুস্থ জীবনযাপন করার চেষ্টা চালাতে হবে। তাহলেই একমাত্র হার্টের অসুখকে প্রতিহত করা সম্ভব। নচেৎ হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেলিওর এবং অ্যারিদমিয়ার মতো প্রাণঘাতী অসুখে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।কিন্তু প্রশ্ন হল, জীবনযাত্রা ও ডায়েটে কী কী পরিবর্তন আনলে হার্ট থাকে সুস্থ? এই প্রাসঙ্গিক প্রশ্নের উত্তর জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রতিবেদনটি শেষ পর্যন্ত পড়তে হবে। আশা করছি, এই প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ পড়ে ফেলার পর আপনার মনের সকল জিজ্ঞাসারই হবে অবসান।

৩০ মিনিট শরীরচর্চা হল মাস্ট​
অলস জীবন রোগর বাসা। তাই দিনে অন্ততপক্ষে ৩০ মিনিট শরীরচর্চা করা চাই। আর সব ধরনের ব্যায়ামের মধ্যে এরোবিক এক্সারসাইজ করলে সবথেকে বেশি উপকার মিলবে। এক্ষেত্রে হাঁটা, জগিং, রানিং, সাইকেল চালানো ও সাঁতার কাটা হল এরোবিক এক্সারসাইজ। তাই সময় পেলেই এই ধরনের শরীররর্চার সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান। এছাড়া চাইলে দিনে ৩০ মিনিট বা তারও বেশি সময় জিমে সময় কাটাতে পারেন। এতেও সমান উপকার পাবেন।

ধূমপান নৈব নৈব চ…
হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে চাইলে আপনাকে আজ, এখনই সিগারেটের নেশা ছাড়তে হবে। এই নেশা হৃৎপিণ্ডের জন্য সর্বনাশা। তাই এই নেশা ছাড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এই প্রসঙ্গে মেয়ো ক্লিনিক জানাচ্ছে, ধূমপান করলে হার্ট ও রক্তনালীর ভীষণ ক্ষতি হয়। এমনকী সিগারেট খেলে রক্তে অক্সিজেনের পরিমাণও কমে আসে। ফলে একাধিক সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই নিজের সুস্বাস্থ্যের স্বার্থেই ধূমপান বন্ধ করে দিন।

​ডায়েট হোক সাতরঙা​
হার্টকে সুস্থ রাখতে চাইলে আপনার পাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে ফল, শাক ও সবজি থাকা চাই। আসলে এই সকল খাবারগুলিই অত্যন্ত উপকারী। এই ধরনের খাবারে রয়েছে ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের ভাণ্ডার। তাই এই খাবারগুলি খেলে হার্ট নিজের কাজটি ঠিকমতো করে যেতে পারে। এমনকী গবেষণায় দেখা গিয়েছে, হার্ট বা গোটা শরীরের প্রদাহজনিত সমস্যা দূর করে দিতেও পারে শাক, সবজি ও ফল। তাই সুস্থ থাকতে এই খাবারগুলি নিয়মিত খেতে ভুলবেন না যেন!

​এই খাবারগুলিকে রাখতে হবে বাদের খাতায়​
কিছু খাবার সরাসরি হার্টের ক্ষতি করে। তাই এই সকল খাবারগুলিকে এড়িয়ে যাওয়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ। এক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি, নুন, রেড মিট এবং স্যাচুরেটেড ফ্যাট (ঘি, মাখন) ইত্যাদি এড়িয়ে যেতে হবে। এছাড়া ফাস্টফুড খাওয়ার ইচ্ছাকেও যত শীঘ্র দমন করতে পারবেন, ততই ভালো। কারণ এই সকল খাবারগুলিতে নুন, চিনি ও তেলের প্রাচুর্য থাকে। আর এই সকল উপাদান কিন্তু হার্টের জন্য অত্যন্ত খারাপ।

ওজন থাকুক নিয়ন্ত্রণে​
ওজন বেশি থাকলে একাধিক সমস্যা পিছু নেয়। তালিকায় ডায়াবিটিস, হাই প্রেশার এবং কোলেস্টেরল সহ বেশ কিছু জটিল অসুখ রয়েছে। আর মাথায় রাখতে হবে যে, এই সকল উপাদান কিন্তু হৃৎপিণ্ডের জন্য খারাপ। তাই যেভাবেই হোক ওজন কমাতে হবে। এক্ষেত্রে বিএমআই ১৮ থেকে ২৫-এর ভিতর রাখার চেষ্টা করুন। তাহলেই হৃদরোগের ফাঁদে পড়ার আশঙ্কা কমবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy