একটি সুস্থ ও দীর্ঘস্থায়ী দাম্পত্যের ভিত্তি হলো পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং সম্মান। অনেক সময় সামান্য ভুল বোঝাবুঝি বা অভ্যাসের অভাবে সম্পর্ক তিক্ত হতে শুরু করে। তাই সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করে তোলার জন্য বিশেষজ্ঞরা কিছু জরুরি বিষয়ের দিকে নজর দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
বিয়ের আগে ও পরে আপনার সম্পর্ককে আরও মজবুত করতে এই ৬টি কৌশল মেনে চলুন:
১. দ্বিধা নিয়ে খোলাখুলি কথা বলুন
বিয়ের আগে যদি আপনার মনে কোনো দ্বিধা বা আশঙ্কা থাকে, তবে তা অবশ্যই সঙ্গীর সঙ্গে খোলাখুলি আলোচনা করে মিটিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করুন। যদি আপনি মনে দ্বিধা রেখে তা নিয়ে কথা না বলেন, তবে বিয়ের পরেও সেই অস্বস্তি থেকে যাবে, যা ভবিষ্যতে সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে।
২. সন্তান ও সঙ্গীকে সমান গুরুত্ব দিন
অনেক সম্পর্কের ক্ষেত্রে দেখা যায়, বিয়ের পর যখন সন্তান আসে, তখন স্ত্রীর মনোযোগ অনেকটাই সন্তানের দিকে চলে যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, একটি সুস্থ সম্পর্কের জন্য সন্তান আসার পরেও দুজনেই একে অপরকে সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। নিজেদের জন্য আলাদা সময় রাখুন।
৩. মনোমালিন্য দ্রুত মিটিয়ে নিন
বিয়ের পর দম্পতিদের মধ্যে ছোটখাটো মনোমালিন্য, ঝগড়া খুবই সাধারণ ঘটনা। কিন্তু কোনো বিবাদে মতভেদ দেখা দিলে তা যদি দীর্ঘায়িত হয়, তবে সম্পর্কের মধ্যে মরচে ধরতে শুরু করে। তাই কোনো সমস্যা দেখা দিলে অবিলম্বে সেটি নিয়ে কথা বলুন এবং মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করুন।
৪. ডেটিং এবং রান্নায় প্রেম বাড়ান
অনেক সময় দেখা যায় সময়ের অভাবে দম্পতিরা আউটিং বা ডিনারে যেতে পারছেন না। এমন পরিস্থিতিতে লাভ-লাইফে প্রেম কমে যেতে পারে। তাই সময় পেলেই স্বামীর সঙ্গে ডেটে যান। সম্ভব হলে কিছু কিছু সময়ে স্বামীর পছন্দের খাবার রান্না করে সারপ্রাইজ দিন। এই ছোট প্রচেষ্টাগুলো সম্পর্কে উষ্ণতা ফিরিয়ে আনে।
৫. উষ্ণ অভিবাদন দিয়ে দিন শুরু করুন
ছোট্ট অভ্যাসগুলি সারাদিনের মেজাজ ঠিক করে দেয়। সকালে ঘুম থেকে ওঠার সাথে সাথে স্বামীকে শুভ সকাল জানান ও তাঁকে জড়িয়ে ধরুন (Hug)। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই উষ্ণতা সারাদিন দুজনের মন ভালো রাখতে সাহায্য করবে।
৬. ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ও স্থান দিন
যে কোনো সম্পর্কে একে অপরকে স্থান বা স্পেস দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। আপনার স্বামী যদি কোথাও কাজ করেন এবং আপনি যদি তাঁকে বন্ধু বা সহকর্মীদের সাথে বাইরে যাওয়ার জায়গা না দেন, তাহলে তাঁর দম বন্ধ হতে শুরু করবে। তাই সবসময় একে অপরকে সম্মান করুন এবং ব্যক্তিগত স্বাধীনতা উপভোগের সুযোগ দিন।
এই সহজ কৌশলগুলো মেনে চললে আপনার দাম্পত্য জীবন হবে আরও সুখী ও শক্তিশালী।