বিয়ার খেলে কি কিডনির পাথর গলে যায়? জেনেনিন আসল সত্যিটা কি?

কিডনিতে পাথরের যন্ত্রণা যারা সহ্য করেছেন, তারাই জানেন সেই কষ্ট কতটা মারাত্মক। এই অসহ্য যন্ত্রণা থেকে মুক্তি পেতে অনেকেই চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার আগে ইন্টারনেটে বা লোকমুখে শোনা ঘরোয়া টোটকায় ভরসা করেন। তার মধ্যে সবথেকে জনপ্রিয় এবং বহুল প্রচলিত ধারণাটি হলো— ‘বিয়ার খেলে নাকি কিডনির পাথর গলে বেরিয়ে যায়’। কিন্তু আপনি কি জানেন, যে বিয়ারকে আপনি ‘ওষুধ’ ভাবছেন, তা আদতে আপনার কিডনিকে চিরতরে বিকল করে দিতে পারে?

ভ্রান্ত ধারণার নেপথ্যে আসল সত্যি: বিয়ার খাওয়ার পর প্রস্রাবের বেগ বাড়ে, এটা সত্যি। সাধারণ মানুষের ধারণা, এই প্রবল চাপের সঙ্গে পাথরও প্রস্রাব দিয়ে বেরিয়ে আসবে। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। বিয়ার একটি ‘ডাই-ইউরেটিক’ পানীয়। এটি সাময়িকভাবে প্রস্রাব বাড়ালেও শরীরকে ভেতর থেকে মারাত্মক জলশূন্য (Dehydration) করে দেয়। আর কিডনিতে পাথর হওয়ার প্রধান কারণই হলো শরীরে জলের অভাব। বিয়ারের প্রভাবে শরীর শুকনো হয়ে গেলে প্রস্রাব আরও ঘন হয়, ফলে পাথর গলে যাওয়া তো দূরের কথা, জমে থাকা খনিজগুলো আরও শক্ত হয়ে পাথরের আকার বাড়িয়ে দেয়।

ইউরিক অ্যাসিডের মরণফাঁদ: বিয়ারে প্রচুর পরিমাণে থাকে ‘পিউরিন’। এই উপাদানটি শরীরে প্রবেশ করে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা হু হু করে বাড়িয়ে দেয়। যাদের আগে থেকেই ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা আছে, বিয়ার খেলে তাদের কিডনিতে নতুন করে পাথর তৈরির ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়।

চিকিৎসকদের পরামর্শ: কিডনির পাথর দূর করতে বিয়ার বা অন্য কোনো অ্যালকোহল নয়, বরং শরীরের প্রয়োজন সঠিক যত্ন। চিকিৎসকদের মতে:

  • জলই জীবন: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার জল পান করুন।

  • লেবুর রস: লেবুর সাইট্রিক অ্যাসিড পাথর জমতে বাধা দেয়।

  • সঠিক খাদ্যাভ্যাস: অতিরিক্ত নুন এবং অক্সালেট সমৃদ্ধ খাবার এড়িয়ে চলুন।

মনে রাখবেন, বিয়ার কোনোভাবেই বৈজ্ঞানিক চিকিৎসা নয়। ছোট পাথর হয়তো জলের চাপে বের হতে পারে, কিন্তু বড় পাথরের ক্ষেত্রে বিয়ার খেলে যন্ত্রণার সঙ্গে সঙ্গে সংক্রমণের ঝুঁকিও বাড়বে। তাই যন্ত্রণায় কাতর হয়ে ভুল পথে না হেঁটে অবিলম্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy