প্রেমের সম্পর্কে বিশ্বাসই আসল ভিত্তি। কিন্তু কখনও কখনও পরিস্থিতি বা স্বভাবগত কারণে সঙ্গী মিথ্যের আশ্রয় নিতে পারেন। আপনার প্রেমিকা আপনার কাছে কিছু গোপন করছেন কি না বা তিনি সত্য বলছেন কি না, তা বোঝার জন্য গোয়েন্দা হওয়ার প্রয়োজন নেই; তাঁর কিছু আচরণ ও দেহভঙ্গি (Body Language) লক্ষ্য করলেই সত্য সামনে আসবে। মনোবিদদের মতে সেরা ৫টি উপায় নিচে দেওয়া হলো:
১. অস্বাভাবিক চোখের পলক ও দৃষ্টি এড়ানো: যখন কেউ মিথ্যে বলে, তখন সে সরাসরি চোখের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে অস্বস্তি বোধ করে। যদি দেখেন আপনার প্রেমিকা কথা বলার সময় বারবার নিচের দিকে তাকাচ্ছেন বা এদিক-ওদিক তাকাচ্ছেন, তবে বুঝতে হবে তিনি কিছু লুকোচ্ছেন। আবার অনেকে মিথ্যেটাকে সত্য প্রমাণ করতে জোর করে পলক না ফেলে তাকিয়ে থাকেন, যা স্বাভাবিকের চেয়ে আলাদা।
২. গল্পের অসঙ্গতি: মিথ্যেবাদীরা সাধারণত সাজানো গল্প বলেন। কয়েকদিন পর ওই একই বিষয়ে প্রশ্ন করলে দেখবেন গল্পের ছোট ছোট তথ্যে অমিল ধরা পড়ছে। বারবার প্রশ্ন করলে যদি তিনি রেগে যান বা প্রসঙ্গ বদলে দেওয়ার চেষ্টা করেন, তবে সাবধান হওয়া জরুরি।
৩. দেহের অস্বাভাবিক ভঙ্গি: কথা বলার সময় যদি কেউ ঘনঘন নাকে হাত দেয়, গলা চুলকায় বা কপালে ঘাম দেখা দেয়, তবে তা স্নায়বিক চাপের লক্ষণ। মিথ্যে বলার সময় মানুষ অবচেতনেই নিজের ঠোঁট কামড়ায় অথবা হাত দিয়ে মুখ ঢাকার চেষ্টা করে।
৪. ডিফেন্সিভ বা আক্রমণাত্মক হওয়া: আপনি হয়তো স্রেফ সাধারণ একটি প্রশ্ন করেছেন, কিন্তু তিনি খুব বেশি প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছেন বা আপনার ওপর উল্টো দোষ চাপাচ্ছেন— একে বলে ‘ডিফেন্সিভ মেকানিজম’। অপরাধবোধ থেকেই মানুষ অনেক সময় অতিরিক্ত মেজাজ দেখায়।
৫. ফোনের অতি-সুরক্ষা: যদি দেখেন হঠাৎ করেই তিনি তাঁর ফোনের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলেছেন বা ফোন আপনার সামনে রাখতে ভয় পাচ্ছেন এবং সবসময় স্ক্রিন উল্টো করে রাখছেন, তবে এটি সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি লাল সংকেত (Red Flag) হতে পারে।
তবে মনে রাখবেন, এই লক্ষণগুলো থাকলেই যে কেউ অপরাধী, তা নয়। অনেক সময় ব্যক্তিগত কোনো সমস্যার কারণেও মানুষ এমন করতে পারে। তাই সরাসরি সন্দেহ না করে শান্তভাবে কথা বলাই বুদ্ধিমানের কাজ।