বিয়ে মানে কেবল দুটি পরিবারের মিলন নয়, বরং দুটি মনের এবং শরীরের একাত্ম হওয়া। বিয়ের প্রথম কয়েক বছরকে সম্পর্কের ‘হানিমুন পিরিয়ড’ বলা হয়। কিন্তু বর্তমানের কর্মব্যস্ত জীবন, স্ট্রেস এবং ডিজিটাল আসক্তির কারণে অনেক নবদম্পতিই শারীরিক ঘনিষ্ঠতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছেন। সাম্প্রতিক একটি মনস্তাত্ত্বিক সমীক্ষা বলছে, নতুন দাম্পত্যে দীর্ঘদিনের শারীরিক দূরত্ব বা যৌন অনীহা কেবল ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি সম্পর্কের ভিত নড়বড়ে করে দিতে পারে।
সমীক্ষা অনুযায়ী, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখলে যে সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে:
১. মানসিক দূরত্বের জন্ম
শারীরিক ঘনিষ্ঠতা শরীরে ‘অক্সিটোসিন’ বা ‘লাভ হরমোন’ নিঃসরণ করে, যা একে অপরের প্রতি টান বাড়ায়। এই সংযোগের অভাব ঘটলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে একধরণের অদৃশ্য দেওয়াল তৈরি হয়। এর ফলে তারা একে অপরের প্রতি আবেগীয়ভাবে বিচ্ছিন্ন বোধ করতে শুরু করেন।
২. আত্মবিশ্বাসের অভাব ও হীনম্মন্যতা
সঙ্গী যদি ঘনিষ্ঠতা এড়িয়ে চলেন, তবে অন্যজনের মনে নিজের আকর্ষণ নিয়ে প্রশ্ন জাগে। তিনি নিজেকে ‘অযোগ্য’ বা ‘অসুন্দর’ ভাবতে শুরু করেন। এই হীনম্মন্যতা থেকে জন্ম নেয় প্রচণ্ড মানসিক অবসাদ।
৩. অহেতুক কলহ ও বিরক্তি
শারীরিক অতৃপ্তি মানুষের মেজাজ খিটখিটে করে দেয়। সমীক্ষায় দেখা গেছে, যেসব দম্পতিদের মধ্যে শারীরিক মিলন কম, তারা তুচ্ছ কারণেও বেশি তর্কে জড়ান। একে অপরের ছোটখাটো ভুলও তখন সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়ে।
৪. তৃতীয় ব্যক্তির প্রবেশের ঝুঁকি
মানবিক প্রবৃত্তি অনুযায়ী মানুষ যখন ঘরে ভালোবাসা বা ঘনিষ্ঠতা পায় না, তখন অবচেতন মনেই সে বাইরে সেই অভাব পূরণ করতে চায়। সমীক্ষা বলছে, নতুন দাম্পত্যে যৌন অসন্তুষ্টি বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্কের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
৫. স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব
শারীরিক মিলন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। এর অভাব ঘটলে ঘুম কম হওয়া, রক্তচাপ বেড়ে যাওয়া বা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগের (Anxiety) মতো শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মনোবিদের পরামর্শ: কাজের চাপ বা শারীরিক ক্লান্তি থাকতে পারে, তবে একে অপরকে সময় দেওয়া এবং স্পর্শের মাধ্যমে যোগাযোগ বজায় রাখা জরুরি। যদি কোনো শারীরিক বা মানসিক সমস্যার কারণে এমনটা ঘটে, তবে লজ্জাবোধ না করে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। মনে রাখবেন, সুস্থ আলোচনা ও ঘনিষ্ঠতাই পারে দাম্পত্যকে দীর্ঘজীবী করতে।