প্রতিটি মানুষ জীবনে দুটি বিষয়কে সবচেয়ে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন প্রথমটি হচ্ছে তার সন্তান ও দ্বিতীয় হচ্ছে তার দাম্পত্যজীবন। আমরা সবাই চাই একটি নিরাপদ, সুখী, মর্যাদাপূর্ণ দাম্পত্যজীবন। কিন্তু সবার মনের এই আশা পূরণ হয় না। তবে অনেকগুলোর মধ্যে দুটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হচ্ছে দাম্পত্যজীবনে দুজনের মধ্যে কার্যকর পারস্পরিক যোগাযোগ ভেঙে পড়া এবং দাম্পত্যজীবনে ইতিবাচক বিনিয়োগের অভাব। দাম্পত্য সম্পর্কে চার ধরনের যোগাযোগ-সমস্যা দেখা দিতে পারে।
সমঝোতা থেকে বিরত থাকা-সম্পর্কে অনেক সময়ে তিক্ততা এত বেড়ে যায় যে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করতে, সমঝোতায় আসতে চেষ্টাই করা হয় না। তারা পারস্পরিক ঘৃণার কারণে সব ধরনের যোগাযোগ এড়িয়ে চলে।
নির্বাক হওয়া-এমন হলে তারা কোনো বিষয়ে চুপ করে থাকাকে সঠিক মনে করেন। যার ফলে দুজনের মধ্যে একটি দেয়াল তৈরি হয়। তাদের মধ্যে দিন দিন অশান্তি বাড়তে থাকে।
পালিয়ে বেড়ানো-নিজেদের মধ্যে সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয়ে অনেকে অন্য দিকে বেশি মনোযোগ দেন। এভাবে তারা একে অপর থেকে আরো বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
প্রতিযোগিতা করা-এটি হচ্ছে সবচেয়ে মারাত্মক ধরনের যোগাযোগ বিপর্যয়। এ ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রী সব সময় একে অপরের বিরুদ্ধে বদনাম করতে থাকে, অনবরত অভিযোগ, নালিশ, খুঁটিনাটি বিষয়েও সারাক্ষণ ঝগড়া করতে থাকে। অনেক সময়ে হাতাহাতি ও মারামারিতে লিপ্ত হয় তারা।যোগাযোগ একটি দক্ষতার ব্যাপার। তাই যুক্তরাষ্ট্রের মনোবিজ্ঞানী ড. সুসান হেইটলার তার বইতে লিখেছেন, দাম্পত্য-সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে দম্পতিদের তিনটি এল দক্ষতা অর্জন করতে হবে। সেগুলো হলো লিসেন, লাভ ও লার্ন।
লিসেন-প্রথমে অন্য পক্ষের ক্ষোভ, অভিযোগ, নালিশ সহমর্মিতার সঙ্গে শুনতে হবে। পরে ঠাণ্ডা মাথায় ও ভিন্নমত থাকলে তা বুঝিয়ে বলতে হবে।
লাভ-লাভ অর্থাৎ ভালোবাসতে হবে। প্রতিদিন সমর্থন, উৎসাহ প্রদান, ক্ষমা চেয়ে নেয়া, সেবাযত্ন, ভালোবাসার কথা বলা, জড়িয়ে ধরা ইত্যাদি করতে হবে।
লার্ন-লার্ন অর্থাৎ শিখতে হবে। দাম্পত্যজীবনে সুখী হতে হলে কিছু দক্ষতা অর্জন করতে হয়। জীবন থেকে এগুলো শিখে নিতে হবে ও চর্চা করতে হবে।