ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা এবং কোলেস্টেরলের মাত্রা উভয়ই স্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ । তাদের মধ্যে কিছু পার্থক্য আছে। সঠিক মাত্রায় ট্রাইগ্লিসারাইড এবং কোলেস্টেরল শরীরে থাকলে রোগের ঝুঁকি কম থাকে।
ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরলের আপেক্ষিক মিল
► শরীরে ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল স্বাভাবিক পরিমাণ থাকলে শরীরের জন্য আর ক্ষতির কারণ হয় না।
► এলডিএল কোলেস্টেরলের পরিমাণ শরীরে বেশি হয়ে গেলে হৃদরোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি তৈরি হয়। ট্রাইগ্লিসারাইড বেড়ে গেলেও হৃদযন্ত্র সংক্রান্ত অসুখের আশঙ্কা থাকে।
► ‘লিপিড প্রফাইল’ বলে যে রক্ত পরীক্ষাটি করানো হয়, সেটা দিয়েই ট্রাইগ্লিসারাইড আর কোলেস্টেরলের পরিমাপ জানা যায়।
►ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল কমানোরও উপায় এক রকম।
ট্রাইগ্লিসারাইডস আর কোলেস্টেরলের মধ্যে পার্থক্য
► শরীর নিজে থেকেই প্রয়োজনীয় কোলেস্টেরল উৎপাদন করে। কোলেস্টেরল একটি মোমযুক্ত পদার্থ, যাকে লাইপোপ্রোটিন বলা হয়। লিভার কোলেস্টেরল তৈরি করে এবং এটি শরীরে বিভিন্ন কাজ করে। এর মধ্যে রয়েছে হরমোন উৎপাদন, খাদ্য হজম এবং ভিটামিন ডি তৈরি। মানুষ তাদের খাবারের মাধ্যমেও কোলেস্টেরল গ্রহণ করে।
► ট্রাইগ্লিসারাইড হলো রক্তে একধরনের চর্বি বা লিপিড। আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশন অনুসারে, ট্রাইগ্লিসারাইড শরীরের সবচেয়ে সাধারণ ধরনের চর্বি এবং একজন ব্যক্তি যে খাবার খায় তা থেকে আসে।
► ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরলের কার্যপ্রণালীও সম্পূর্ণই আলাদা। ট্রাইগ্লিসারাইডের মূল কাজ শরীরকে শক্তি জোগানো এবং পরবর্তী সময়ের জন্য অব্যবহৃত ক্যালোরি জমিয়ে রাখা। অন্যদিকে কোলেস্টেরল শরীরের কোষ, হরমোন, ভিটামিন ডি ও পিত্ত তৈরিতে সহায়তা করে।
► ট্রাইগ্লিসারাইড ও কোলেস্টেরল দুটোই অনেকটা বেশি হয়ে গেলে দুটোই আলাদাভাবে হৃদযন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় উঠে এসেছে, কোলেস্টেরল স্বাভাবিক হলেও ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি মাত্রায় থাকলে হৃদরোগের ঝুঁকি হতে পারে। ট্রাইগ্লিসারাইড বেশি হওয়া মানে ধরে নিতে হবে শরীর ঠিকমতো তার শক্তি ক্ষয় বা শক্তি সঞ্চয় করছে না।