ঘুরে বেড়িয়ে ত্বক নাজেহাল? যত্ন নিন এই উপায়ে

যেকোনো উৎসবের আগে সবাই ত্বকের যত্নে বেশ সচেতন থাকে। কারণটিও অনুমেয়। উৎসবের দিনে যেন নিজেকে সবার থেকে একটু আলাদা দেখায়, এ জন্য উৎসবের আগে ত্বকচর্চায় বেশ সচেতন থাকে সবাই । আবার ছুটিতে ঘোরাঘুরি, খাওয়াদাওয়া তো আছেই।

এই সময়ে ত্বকের যত্ন নেওয়ার সুযোগ খুব কমই হয় সবার। ফলে অনেকেরই ত্বক নির্জীব ও মলিন দেখায়। ব্রণ, র‌্যাশ, রোদে পোড়া দাগসহ নানা সমস্যা দেখা দেয়।

এখন উজ্জ্বল ও সুন্দর ত্বক পেতে তাই ত্বকের বাড়তি যত্ন প্রয়োজন। একটু সচেতন আর সময় দিলেই উৎসবের ছুটির পর ত্বক হতে পারে আরো উজ্জ্বল। ত্বকের চর্চায় সবচেয়ে প্রথম যা মনে রাখতে হবে তা হলো, ত্বকের ধরন অনুযায়ী যত্ন। ত্বক সাধারণত স্বাভাবিক, তৈলাক্ত, শুষ্ক ও মিশ্র হয়ে থাকে। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন বা রূপচর্চা না করলে আসলে ত্বকের কোনো কাজেই আসে না। উল্টো ত্বকের ওপর জুলুম করা হয়। তাই ত্বকের ধরনটা বোঝা বেশ জরুরি।

ত্বকের ধরন বোঝার উপায়

ত্বক কী ধরনের তা বোঝার জন্য রাতে মুখ ভালোভাবে ধুয়েমুছে ঘুমাতে হবে। মুখে কিছু লাগানো যাবে না। সকালে ঘুম থেকে উঠে যদি দেখা যায় মুখটা খুব তেলতেলে, তবে বুঝতে হবে ত্বক তৈলাক্ত। আর যদি মুখে হালকা তৈলাক্ত ভাব থাকে, শুধু নাক ও কপাল একটু চকচকে, কিন্তু চোখের কোণ খানিকটা শুকনা এবং টিস্যু পেপার দিয়ে মুখ মুছলে খুব একটা তৈলাক্ত থাকে না, তবে সে ত্বক স্বাভাবিক। মিশ্র ত্বকে মুখের বিভিন্ন অংশের ত্বকের প্রকৃতি বিভিন্ন হয়। নাক ও কপালে হয়তো তেলতেলে ভাব, আবার গালের ত্বক শুকনা—এটাই মিশ্র ত্বকের বৈশিষ্ট্য। শুকনা ত্বক দেখলেই বোঝা যায়। এমন ত্বকে তেলতেলে ভাব দূরের কথা, সতেজ ভাবও থাকে না।

ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করা বেশ জরুরি

এখন ত্বককে ভেতর থেকে পরিষ্কার করা জরুরি। ঘোরাঘুরির সময় হয়তো সেভাবে ত্বক পরিষ্কারের সুযোগ মেলেনি। এখন এদিকে মনোযোগ দিতে হবে। অয়েল ক্লিনজার বা যেকোনো মেকআপ ওয়াইপস দিয়ে মুখ, গলা ও কাঁধ মুছে ফেলুন। তারপর আপনার ত্বকের উপযোগী ফেসিয়াল ক্লিনজার বা ফোম বেজড ক্লিনজার দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলুন। এরপর তুলার সাহায্যে টোনার দিয়ে ত্বকের উপযোগী ময়েশ্চারাইজার দিন। ত্বক খুব বেশি ড্যামেজড হয়ে গেলে ত্বকে কোনো সিরাম ইউজ করতে পারেন। আর দিনের বেলা সানস্ক্রিন অবশ্যই ব্যবহার করবেন।

চোখের নিচের ত্বকের যত্ন

ঘোরাঘুরিতে ঘুম কমই হয়। ঘুমের অনিয়মের ফলে চোখের নিচের ত্বকে ফোলা ভাব ও কালচে দাগ দেখা দেয়। এসবের থেকে মুক্তি পেতে চোখের নিচে আন্ডার আই মাস্ক বা ক্রিম ব্যবহার করতে পারেন। আলু ও শসা ছেঁচে ফ্রিজে রেখে বরফ করে রেখে দিতে পারেন। এই বরফের টুকরা দিয়ে চোখের যত্ন নিন।

আবার মেকআপ ও নিয়মিত যত্নের অভাবে ত্বকে যেসব সমস্যা দেখা যায়, সেগুলো দূর করতে মাস্ক  বেশ উপকারী। ত্বককে গভীর থেকে পরিষ্কার করতে মাস্ক বেশ কার্যকরী। সব ধরনের ত্বকের জন্য কিছু ফেস মাস্ক থাকছে নিচে, ত্বকের ধরন অনুযায়ী ব্যবহার করতে পারেন।

স্বাভাবিক ত্বকের জন্য ফেসপ্যাক

১।     কমলালেবুর খোসা বাটা, জলপাই তেল ও কাঁচা ডিমের কুসুম একত্রে মিশিয়ে প্যাক তৈরি করতে পারেন। মুখে লাগিয়ে ১৫-২০ মিনিট রেখে স্বাভাবিক ঠাণ্ডা জলে মুখ ধুয়ে ফেলতে হবে।

তৈলাক্ত ত্বকের ফেসপ্যাক

১। মসুর ডাল বাটা, দুধের সর একত্রে ১৫-২০ মিনিট মুখে রেখে হালকা গরম জল এবং পরে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২। জলপাই তেল, কাঁচা ডিমের কুসুম ও মসুর ডাল বাটা একত্রে মুখে মেখে ১৫-২০ মিনিট পর ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

শুকনা ত্বকের জন্য ফেসপ্যাক

১। কাঁচা হলুদ, দুধের সর, শসার রস ও বেসন একত্রে মিশিয়ে ১৫-২০ মিনিট মুখে লাগিয়ে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

মিশ্র ত্বকের জন্য কয়েকটি ফেসপ্যাক

১।    ডিমের সাদা অংশ একটু, দুই চামচ কমলার রস, এক চা চামচ মধু মিশিয়ে মুখে ১৫ মিনিট রেখে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

২। দুধের সর, বেসন, লেবুর রস মিলিয়ে মুখের ওপর ১৫ মিনিট রেখে হালকা গরম, পরে ঠাণ্ডা জল দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে।

Related Posts

© 2025 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy