বাড়িঘর বা আসবাবপত্র পরিষ্কার করার সময় আমরা প্রায়শই এমন কিছু ভুল করে থাকি, যা ময়লা পরিষ্কারের পরিবর্তে জিনিসগুলোকে আরও নোংরা করে দেয়, বা উল্টে জীবাণু ছড়ানোর ঝুঁকি বাড়ায়। এই ভুলগুলো শুধরে নিয়ে ঘরকে সঠিকভাবে পরিষ্কার করার জন্য রইল কিছু সহজ ও কার্যকরী টিপস।
১. একই ন্যাকড়া দিয়ে সব পরিষ্কার করার ভুল
ভুল: অনেকে ঘরের বিভিন্ন ধরনের জিনিস ও স্থান পরিষ্কারের জন্য একই ন্যাকড়া বা কাপড়ের টুকরা ব্যবহার করেন। এর ফলে এক জায়গার ময়লা ও জীবাণু অন্য জায়গায় ছড়িয়ে পড়ে। যেমন, রান্নাঘরের ময়লা মোছার কাপড়ের মাধ্যমে তা শোবার ঘরের টেবিলে চলে আসতে পারে।
সঠিক উপায়: প্রতিটি রুমের জিনিস পরিষ্কারের জন্য আলাদা পেপারটিস্যু বা গামছা ব্যবহার করুন। মাইক্রোফাইবার দিয়ে তৈরি পরিষ্কারক কাপড় ব্যবহার করতে পারেন। কোনো জায়গা পরিষ্কারের পর কাপড়টি ধুয়ে ফেললে জীবাণু দূর হয়।
২. পালকের ঝাড়ু ব্যবহার
ভুল: পালকের ঝাড়ু ময়লা আঁকড়ে রাখতে পারে না। এটি দিয়ে আসবাবপত্র পরিষ্কার করার সময় ময়লা কেবল নিচের দিকে বা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
সঠিক উপায়: আসবাবপত্রের উপরিভাগের ময়লা সঠিকভাবে পরিষ্কারের জন্য মাইক্রোফাইবার পরিষ্কারক কাপড় বা পেপার টাওয়াল ব্যবহার করা উচিত।
৩. ভ্যাকুয়াম ক্লিনার অপরিষ্কার রাখা
ভুল: ঘরের ময়লা পরিষ্কারের জন্য ভ্যাকুয়াম ক্লিনার ব্যবহার করলেও অনেকেই সেটি পরিষ্কার রাখার কথা ভুলে যান।
সঠিক উপায়: ভ্যাকুয়ামের ফিল্টার পরিষ্কার বা পরিবর্তন করতে হবে। নয়তো মেশিনটি ঠিকভাবে ময়লা টানতে পারবে না বা বাতাসের সঙ্গে ময়লা আবার ফিরে আসতে পারে।
৪. টয়লেট ব্রাশ ভেজা অবস্থায় ঢেকে রাখা
ভুল: টয়লেট পরিষ্কারের পর অনেকে ব্রাশ ভেজা অবস্থায় ঢেকে রেখে দেন। টয়লেটের জীবাণু ব্রাশে জমে থাকে এবং পরে ব্যবহারের সময় টয়লেটে জীবাণু ফিরে আসে।
সঠিক উপায়: ব্রাশটি ব্যবহারের পর পুরোপুরি না শুকানো পর্যন্ত ঢাকনা লাগিয়ে দেবেন না।
৫. মেঝে পরিষ্কারের আগে আসবাবপত্র মোছা
ভুল: মেঝে ঝাড়ু দেওয়া, মোছা বা ভ্যাকুয়াম দিয়ে পরিষ্কার করার আগে আসবাবপত্র, ধুলোবালি এবং টেবিল পরিষ্কার করা হয় না। এতে আসবাবপত্র মোছার পর আবার মেঝে পরিষ্কার করতে হয়।
সঠিক উপায়: প্রথমে আসবাবপত্র, পর্দা ও দেওয়াল থেকে ধুলাবালি মুছে নিন, তারপর মেঝে পরিষ্কার করুন।
৬. সরাসরি স্প্রে করা
ভুল: আসবাবপত্র বা গ্লাসের জিনিসে সরাসরি স্প্রে ব্যবহার করে পরিষ্কার করলে ময়লা আটকে থাকতে পারে।
সঠিক উপায়: মাইক্রোফাইবার কাপড় বা পেপার টাওয়ালে স্প্রে করার পর সেটি দিয়ে কাঁচ বা আসবাবপত্র মুছতে হবে।
৭. বাসন ধোয়ার সাবান দিয়ে চপিং বোর্ড পরিষ্কার
ভুল: বাসন পরিষ্কারের সাবান দিয়ে চপিং বোর্ড ভালোভাবে জীবাণুমুক্ত হয় না। বোর্ডে লেগে থাকা ব্যাকটেরিয়া বাসনের মাধ্যমে খাবারে ছড়িয়ে যেতে পারে।
সঠিক উপায়: চপিং বোর্ড পরিষ্কার করতে হাইড্রোজেন পারঅক্সাইড বা ব্লিচ সলিউশন (২ টেবিল চামচ ব্লিচ ও ১ গ্যালন জল) ব্যবহার করুন। চপিং বোর্ডটি এতে কিছুক্ষণ চুবিয়ে নিন এবং ভালোভাবে শুকিয়ে নিন।
পাশাপাশি, ওয়াশিং মেশিনও নিয়মিত পরিষ্কার করতে হবে, কারণ ড্রামে লেগে থাকা ডিটারজেন্ট, জীবাণু ও দাগ কাপড়ের মাধ্যমে ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।