শহরে আবহাওয়ার আকস্মিক পরিবর্তন অর্থাৎ হঠাৎ ঠান্ডা-গরমের তারতম্যের কারণে অনেকেই ঘন ঘন কাশির সমস্যায় ভুগছেন। কখনও গরম পোশাক পরতে হচ্ছে, আবার ঘরে ঢুকতেই গরমের কারণে তা খুলে ফেলতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সর্দি-কাশি কমাতে অনেকে কাশির সিরাপ ব্যবহার করলেও, তাতে তেমন উপকার হচ্ছে না, উল্টে ঘুম ঘুম ভাব বাড়ছে। চিন্তা নেই, আপনার রান্নাঘরে থাকা কিছু উপাদান দিয়েই এই সমস্যার সহজ সমাধান সম্ভব।
ঘন ঘন কাশি এবং বুকে জমা কফ দূর করতে এই সহজ ৩টি ঘরোয়া টিপস অনুসরণ করুন:
১. মধু (Honey) ব্যবহারের সঠিক পদ্ধতি
ছোটবেলা থেকেই মা-ঠাকুমারা কাশি দমনে মধুর ব্যবহারের কথা বলে এসেছেন। বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত— মধু কাশি কমাতে দারুণ কার্যকর।
-
খালি পেটে মধু: প্রতিদিন সকালে উঠে খালি পেটে এক চামচ করে মধু খান। এতে সারাদিনের কাশি দূরে থাকবে এবং বুকে কফ জমলে তা দূর হতে সাহায্য করবে।
-
উষ্ণ জলের সঙ্গে: যদি শুধু মধু খেতে না চান, তবে এক গ্লাস উষ্ণ জলে পরিমাণমতো মধু মিশিয়ে খালি পেটে পান করলেও উপকার পাবেন।
-
লবঙ্গের সঙ্গে: অল্প আঁচে মধু সামান্য গরম করে নিন। এরপর একটু ঠান্ডা করে তার মধ্যে লবঙ্গ পাউডার মিশিয়ে খেতে পারেন। এতে দ্রুত কাশির সমস্যা দূর হয়।
২. রসুন (Garlic) কীভাবে ব্যবহার করবেন?
শুধু মধুই নয়, রসুনও এই ধরনের সর্দি-কাশি সমস্যায় দারুণ কাজ করে। এর অ্যান্টি-ইনফ্ল্যামেটরি গুণ শরীরকে দ্রুত সুস্থ করে তোলে।
-
ঘি ও রসুনের ব্যবহার: ঘিয়ের মধ্যে দু-কোয়া রসুন দিয়ে ভালো করে গরম করে নিন। তারপর গরম গরম ভাতের সঙ্গে মেখে খেতে পারেন। এতে উপকার পাবেন।
-
খালি পেটে রসুন: সকালে খালি পেটে যদি এক কোয়া করে রসুন খেতে পারেন, তাহলে সর্দি-কাশি থেকে উপকার পাবেন।
-
মধুর সঙ্গে: যদি রসুনের উগ্র গন্ধের জন্য তা খেতে অসুবিধা হয়, তাহলে রসুনের কোয়া পিষে মধুর সঙ্গে মিশিয়েও খেতে পারেন। এতে আরও ভালো উপকার পাবেন।
৩. আদার (Ginger) কার্যকরী প্রয়োগ
আদা যে সর্দি-কাশি কমাতে সাহায্য করে, তা মোটামুটি সবারই জানা। কিন্তু কীভাবে খেলে দ্রুত উপকার হবে, তা জেনে নেওয়া জরুরি।
-
চায়ের বদলে কফি: অনেকে মনে করেন, চায়ের সঙ্গে আদা মিশিয়ে পান করলে উপকার পাওয়া যায়। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চায়ের পরিবর্তে ব্ল্যাক কফির মধ্যে আদা মিশিয়ে খেলে দ্রুত ও বেশি উপকার পাবেন।