স্নানেও বাদ পড়ে শরীরের এই ৫ স্থান! অজান্তে ডেকে আনছেন বিপদ

শরীরকে জীবাণুমুক্ত ও সতেজ রাখতে প্রতিদিন স্নান করা আমাদের দৈনন্দিন রুটিনের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে জানেন কি, স্নান করার সময় কিছু নির্দিষ্ট স্থান পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সামান্য ভুলও ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ? কারণ শরীরের বিভিন্ন ভাঁজে ও অংশে জীবাণু এবং ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে। আর সেসব স্থান নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে। তাই সুস্থ ও সুরক্ষিত থাকতে শরীরের প্রতিটি অঙ্গ সঠিক পদ্ধতিতে পরিচ্ছন্ন রাখা অপরিহার্য। জেনে নিন তেমনই ৫টি গুরুত্বপূর্ণ স্থান সম্পর্কে, যা স্নানের সময়ও আমরা প্রায়শই অবহেলা করে থাকি:
১. কানের পেছনের অংশ:
শ্যাম্পু করার সময় হয়তো সামান্য জল লাগে, তবে অনেকেই কানের পেছনের অংশ ভালোভাবে পরিষ্কার করার প্রয়োজন মনে করেন না। অথচ জানেন কি, কানের এই অংশে সেবাশিয়াস গ্রন্থিগুলো অবস্থিত? এটি ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু জন্মানোর জন্য একটি আদর্শ স্থান। তাই সংক্রমণ এড়াতে প্রতিদিন কানের পেছনের অংশ পরিষ্কার রাখা জরুরি। নরম কাপড় বা তুলো সামান্য জলে ভিজিয়ে কানের পেছনে আলতোভাবে বুলিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।
২. নাভি:
অনেকেই নিয়মিত নাভির যত্ন নেন না। অথচ নাভির খাঁজে ধুলো, ময়লা এবং ব্যাকটেরিয়া জমার ঝুঁকি অনেক বেশি। নিয়মিত পরিষ্কার না করলে এই ময়লা জমাট বেঁধে বাজে দুর্গন্ধও সৃষ্টি করতে পারে। স্নানের সময় আঙুল দিয়ে সাবান লাগিয়ে নাভির ভেতরের অংশ পরিষ্কার করুন এবং পরে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন।
৩. নখের ভেতর:
সাবান বা হ্যান্ডওয়াশ দিয়ে হাত ধোয়ার পরেও অনেক সময় নখের ভেতরে ময়লা রয়ে যায়। আর নখের ভেতরে জমে থাকা এই জীবাণু খাবারের মাধ্যমে সহজেই আমাদের পেটে চলে যায়। এর ফলে পেটের বিভিন্ন গোলমাল, বমি এমনকি ডায়রিয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই হাত ধোয়ার সময় একটি নরম ব্রাশ দিয়ে নখের ভেতরের অংশও পরিষ্কার করুন। নিয়মিত নখ কেটে ছোট রাখাও জীবাণু সংক্রমণ এড়াতে সহায়ক।
৪. জিহ্বা:
দাঁতের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে নিয়মিত জিহ্বা পরিষ্কার করা অত্যন্ত জরুরি। কারণ জিহ্বায় থাকা ব্যাকটেরিয়া সহজে ধ্বংস হয় না এবং মুখের দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হতে পারে। তাই প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করার পাশাপাশি একটি জিভ চাঁছা (tongue scraper) ব্যবহার করে জিহ্বা পরিষ্কার করুন।
৫. পায়ের আঙুলের খাঁজ:
অনেকেই পায়ের যত্ন নিতে তেমন আগ্রহী নন। বিশেষ করে পায়ের আঙুলের খাঁজে সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে। পরিষ্কার না করলে ময়লা ও ব্যাকটেরিয়া জমে সেখানে এবং এর ফলে র্যাশ, ঘা ও চামড়া ওঠার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়াও, দীর্ঘদিন ধরে ময়লা জমে থাকার কারণে পায়ে দুর্গন্ধও হতে পারে। স্নানের সময় প্রতিটি আঙুলের খাঁজ ভালোভাবে সাবান দিয়ে পরিষ্কার করুন এবং মোছার সময় খেয়াল করে আঙুলের মধ্যবর্তী স্থান শুকনো করুন।
শরীরের এই পাঁচটি স্থান পরিষ্কার করার ক্ষেত্রে সামান্য মনোযোগ দিলেই অনেক ধরনের সংক্রমণ এড়ানো সম্ভব। তাই প্রতিদিনের স্নানের অভ্যাসে এই বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করুন এবং সুস্থ থাকুন।