আমরা সারাদিন কত কিছু স্পর্শ করি! কিন্তু আমাদের নিজের শরীরেরই এমন কিছু অংশ আছে, যেখানে হাত দেওয়া মানেই অজস্র জীবাণু ও ব্যাকটেরিয়াকে আমন্ত্রণ জানানো। চিকিৎসকরা বারবার সতর্ক করেন, সংক্রমণ থেকে বাঁচতে এই জায়গাগুলোতে হাত দেওয়া যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
যে অংশগুলো স্পর্শ না করাই শ্রেয়:
মুখমণ্ডল: হাতের তালুতে প্রচুর জীবাণু লেগে থাকে। আমরা যখন হাত দিয়ে মুখ বা গাল খুঁটি, তখন সেই ব্যাকটেরিয়া ত্বকে স্থানান্তরিত হয়। ফলে ব্রণ, অ্যালার্জি বা ইনফেকশনের সমস্যা বাড়ে।
চোখের পাতা: চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ। হাত দিয়ে চোখের পাতা ঘষলে বা স্পর্শ করলে চোখের ভেতরে ধুলোবালি বা জীবাণু ঢুকে কনজাংটিভাইটিস বা আই-ইনফেকশন হতে পারে।
কানের ভেতর: অনেকেই কানের ভেতরে আঙুল ঢুকিয়ে চুলকান। কিন্তু এটি অত্যন্ত বিপজ্জনক! কানের ভেতরের ত্বক খুব পাতলা। আঙুলের নখ থেকে কানের পর্দায় ক্ষত হতে পারে বা সংক্রমণ ছড়াতে পারে।
নাকের ভেতর: এটি কেবল অভদ্রতা নয়, স্বাস্থ্যের জন্যও ক্ষতিকর। নখের ব্যাকটেরিয়া নাকের শ্লেষ্মা ঝিল্লির সংস্পর্শে এসে সাইনাস সংক্রমণ বা শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বুদ্ধিমানের মতো বাঁচতে কী করবেন?
হাত পরিষ্কার রাখা: বাইরে থেকে এলে বা যেকোনো কিছু স্পর্শ করার পর নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস করুন।
হ্যান্ড স্যানিটাইজার: যেখানে সাবান নেই, সেখানে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন।
নখ ছোট রাখা: নখের ভেতরে সবচেয়ে বেশি ময়লা জমে। তাই নিয়মিত নখ কাটুন।
অভ্যাস পরিবর্তন: হাত দিয়ে চুলকানোর বা মুখ ছোঁয়ার অভ্যাস থাকলে সচেতনভাবে তা কমানোর চেষ্টা করুন।
মনে রাখবেন, ছোট ছোট এই অসাবধানতাই বড়সড় সংক্রমণের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সুস্থ থাকতে হাতকে যতটা সম্ভব শরীরের সংবেদনশীল অংশ থেকে দূরে রাখুন।