হেঁশেলের যুদ্ধে চিরকালই সরিষার তেল বনাম সয়াবিন তেলের লড়াই ছিল অমীমাংসিত। কিন্তু আধুনিক গবেষণায় পুষ্টিবিদরা এখন যা বলছেন, তাতে চমকে উঠছেন সাধারণ মানুষ। হৃদরোগ থেকে শুরু করে হজমের সমস্যা—ভোজ্য তেলের বাছাইয়ের ওপর নির্ভর করে আপনার পরিবারের সুস্থতা। পুষ্টিবিদদের মতে, আমাদের দেশীয় ‘ঘানি ভাঙা’ সরিষার তেলই আসলে পুষ্টির ভাণ্ডার।
সরিষার তেলের চমকপ্রদ গুণ: সরিষার তেলে থাকে ওমেগা-৩ এবং ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিডের আদর্শ অনুপাত। এতে মনোস্যাচুরেটেড ফ্যাটি অ্যাসিডের পরিমাণ বেশি থাকে, যা শরীরের খারাপ কোলেস্টেরল (LDL) কমিয়ে ভালো কোলেস্টেরল (HDL) বাড়াতে সাহায্য করে। এর তীব্র ঝাঁঝালো স্বাদের মূলে রয়েছে ‘অ্যালিল আইসোথায়োসায়ানেট’, যা ক্যান্সার কোষ রোধে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
সয়াবিন ও রিফাইন্ড তেলের অন্ধকার দিক: বর্তমানে জনপ্রিয় সয়াবিন বা অন্যান্য রিফাইন্ড তেল বাজারজাত করার সময় উচ্চ তাপমাত্রায় রাসায়নিক পদ্ধতিতে পরিশোধিত করা হয়। এর ফলে তেলের স্বাভাবিক পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায় এবং এতে ‘ট্রান্স ফ্যাট’-এর মাত্রা বৃদ্ধি পায়। পুষ্টিবিদদের মতে, এই ধরণের তেল অতিরিক্ত ব্যবহারের ফলে স্থূলতা, ডায়াবেটিস এবং হৃদরোগের ঝুঁকি কয়েক গুণ বেড়ে যায়।
পুষ্টিবিদের পরামর্শ: সরিষার তেলের ‘স্মোকিং পয়েন্ট’ অনেক বেশি, তাই উচ্চ তাপে রান্নার জন্য এটিই সেরা। বিপরীতে, সয়াবিন তেল খুব দ্রুত অক্সিডাইজড হয়ে ক্ষতিকর রাসায়নিক তৈরি করতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে প্রাচীন আমলের ঘানি ভাঙা খাঁটি সরিষার তেলে ফিরে আসার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।