সন্তানকে পড়াশোনায় মনোযোগী করার সহজ কৌশল, বাবা-মায়ের জন্য কার্যকরী টিপস!

প্রতিটি বাবা-মা চান তাদের সন্তান সুশিক্ষিত হয়ে উঠুক। কিন্তু অনেক সময় ছোট ছেলে-মেয়েরা বাবা-মায়ের কথা শুনতে চায় না বা পড়াশোনায় মনোযোগ দেয় না। এই সমস্যাগুলো সামলাতে বাবা-মায়ের জন্য কিছু কার্যকরী কৌশল তুলে ধরা হলো, যা আপনার সন্তানকে পড়াশোনায় আগ্রহী করে তুলতে সাহায্য করবে।
সন্তানের পড়াশোনায় কীভাবে পাশে থাকবেন?
উপস্থিতি নিশ্চিত করুন: সন্তান কিছুটা বড় না হওয়া পর্যন্ত তাকে পড়তে বসলে তার সামনে থাকুন। এমন একটা সময় তার পড়ার জন্য বরাদ্দ করুন, যাতে অফিস সামলে সেই সময়টা আপনিও বাড়িতে থাকতে পারেন। এতে সন্তানের কোথায় ঘাটতি, তা বোঝা আপনার জন্য সহজ হবে।
দৃশ্যমান শিক্ষাপদ্ধতি ব্যবহার করুন: শিশুদের ক্ষেত্রে ছবি ও ব্লকের সাহায্য নিন। পড়ার বিষয়টা ছবি এঁকে, প্রয়োজনে আলাদা আলাদা রং ব্যবহার করে বোঝান। পড়াশোনার ক্ষেত্রে ভিজ্যুয়াল উপকরণ খুব কাজে আসে। ইতিহাস বা নাটক বোঝাতে বসলে সেই ঘটনার উপর নির্মিত কোনো নাটক বা সিনেমার দৃশ্যও দেখাতে পারেন। এতে বিষয়টি মনে থাকবে বেশি। তবে, এটি শুধু সাহিত্যভিত্তিক হলে তবেই ব্যবহার করবেন।
বোঝানোর সুযোগ দিন: সন্তান যা পড়ছে, সেটা আপনাকে পাল্টা বোঝাতে বলুন। এটা করতে পারলে বুঝবেন, পড়া বুঝতে বা মনে রাখতে তার আর সমস্যা হবে না।
লিখে অভ্যাস করান: পড়া বুঝে একবার লিখে ফেলতে বলুন। লিখে ফেললে সহজেই মনে রাখতে পারবে।
গল্পের ছলে শেখান: ইতিহাস বা সাহিত্যকে গল্পের ছলে বুঝিয়ে বলুন সন্তানকে। কিছু মনে রাখার বিশেষ কৌশল আছে, যেমন— নির্দিষ্ট সাল-তারিখ বা বানান, রসায়নের পর্যায় সারণী— এগুলোর জন্য সহজ কিছু কৌশলগত ফর্মুলা আছে। ইন্টারনেট থেকেও এ ধরনের কৌশল জানা যায়।
বিরতি দিন: শিশু একাগ্র না হলে তাকে একটানা পড়াবেন না। এতে তার মনঃসংযোগের ঘাটতি দেখা যেতে পারে। বরং পড়ার মাঝে মাঝে তার পছন্দের কিছু করতে দিন। এতে সে আনন্দ পাবে, মন ভালো রেখে পড়লে মনে রাখতেও পারবে সহজে।
যে বিষয়গুলি এড়িয়ে চলবেন
পুরস্কারের লোভ দেখানো নয়: ‘পড়া পারলে এই কিনে দেব, ওই কিনে দেব’— ছোট থেকেই এমন লোভ দেখানো বন্ধ করুন। এতে মনঃসংযোগ তো বাড়েই না, উল্টো তার মধ্যে নিজের দায়িত্ব-কর্তব্যের প্রতি দায়বদ্ধতা আসে না। যা করে, তা কেবল পুরস্কারের লোভে করে।
এই কৌশলগুলো মেনে চললে আপনার সন্তান পড়াশোেনায় আরও মনোযোগী হবে এবং আনন্দের সঙ্গে জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।