কনকনে ঠান্ডায় বাথরুমের চৌকাঠ পেরোলেই যেন গায়ে জ্বর আসে অনেকের। শীতকালে কেউ রোজ স্নান করেন, আবার কেউ দু-তিন দিন অন্তর জলের ধারেকাছে যান। কিন্তু চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে? শীতে স্নান করা কি আদৌ জরুরি, নাকি এটি কেবলই অভ্যাস? এই নিয়ে যাবতীয় ভ্রান্তি দূর করলেন আরএন টেগোর হাসপাতালের প্রখ্যাত চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম বিশ্বাস।
শীতে কি রোজ স্নান জরুরি?
ডঃ বিশ্বাসের মতে, শীতে রোজ স্নান করা অবশ্যই জরুরি। তাঁর কারণগুলো হলো:
-
শীতে আমাদের ত্বক খুব শুষ্ক হয়ে যায়। স্নান করলে শরীরের মরা চামড়া ও নোংরা পরিষ্কার হয়।
-
স্নান না করলে শরীরে ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হতে পারে, যা থেকে একজিমা বা সেলুলাইটিসের মতো চর্মরোগ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
-
তবে শীতে সাবানের ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ রাখা উচিত। বেশি সাবান মাখলে ত্বক আরও খসখসে হয়ে চুলকানি হতে পারে।
উষ্ণ জল না কি ঠান্ডা জল?
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, কনকনে ঠান্ডায় শরীরকে কষ্ট দেওয়া ঠিক নয়।
-
স্নানের সময়: একদম ভোরে স্নান না করে বেলা বাড়লে, যখন তাপমাত্রা একটু বেশি থাকে, তখন স্নান করা ভালো।
-
জলের তাপমাত্রা: হালকা উষ্ণ বা কুসুম কুসুম গরম জলে স্নান করাই শ্রেয়। এতে শরীরের তাপমাত্রার ভারসাম্য বজায় থাকে।
স্নান না করলে কি আয়ু বাড়ে?
সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক সময় দাবি করা হয় যে, শীতে স্নান না করলে ‘লাইফ স্প্যান’ বা আয়ু বাড়ে। ডঃ বিশ্বাস স্পষ্ট জানিয়েছেন, “এই কথার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।” একইভাবে স্নান করলে শরীরের ‘গুড ব্যাকটেরিয়া’ ধ্বংস হয়ে যাওয়ার তত্ত্বকেও তিনি নাকচ করে দিয়েছেন।
শিশু ও বয়স্কদের জন্য বিশেষ সাবধানতা
-
বয়স্কদের জন্য: যাঁদের আর্থরাইটিস বা বাতের ব্যথা আছে, তাঁরা অবশ্যই গরম জল ব্যবহার করবেন। খুব ভোরে স্নান করবেন না, কারণ এতে নিউমোনিয়ার ঝুঁকি থাকে।
-
শিশুদের জন্য: ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে রোজ স্নান না করিয়ে হালকা গরম জলে ‘গা স্পঞ্জ’ করিয়ে দেওয়া বেশি নিরাপদ। যারা খেলাধুলা করে, তাদের ক্ষেত্রে স্নান করানো যেতে পারে।
চিকিৎসক ডঃ অরিন্দম বিশ্বাসের ৫টি বিশেষ টিপস:
১. শীতে দিনে ১-২ বারের বেশি স্নান করবেন না। ২. মাথায় বেশি জল ঢালবেন না; ভেজা চুলে ঠান্ডা হাওয়া লাগলে সর্দি-কাশি হতে পারে। ৩. স্নান করার পরেই ফ্যান চালাবেন না। ৪. জিম বা ওয়ার্কআউটের পর স্নান করা জরুরি, তবে সাবান কম ব্যবহার করুন। ৫. শরীর গরম রাখতে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে স্নানের আগে বা পরে তেল মালিশ করতে পারেন।
সুতরাং, শীতের আলস্য কাটিয়ে সুস্থ থাকতে নিয়ম মেনে স্নান করুন। শরীর ও মন দুই-ই সতেজ থাকবে।