রাতে ভালো ঘুম চান? ভুলেও করবেন না এই কাজগুলো!

বিশ্বের বেশিরভাগ মানুষই রাতের বেলায় শান্তিতে ঘুমাতে যান। তবে এমন কিছু মানুষও আছেন যারা বিছানায় ছটফট করেন, কিন্তু কিছুতেই ঘুম আসতে চায় না। তাদের একটাই অজুহাত – ঘুম আসছে না। অথচ একটু সচেতন হলেই রাতে গভীর ঘুম আসা সম্ভব। ঘুমের আগে কিছু অভ্যাস ত্যাগ করলেই এই সমস্যা থেকে মুক্তি পাওয়া যায়। আসুন, জেনে নেওয়া যাক রাতে ঘুমানোর আগে কোন কাজগুলো করা উচিত নয়:

১. স্মার্টফোনের স্ক্রিনে বুঁদ হয়ে থাকা:

অনেকেরই অভ্যাস থাকে ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফোন নিয়ে নাড়াচাড়া করা। তারা মনে করেন, স্ক্রল করতে করতে একসময় ঘুম এসে যাবে। কিন্তু বিজ্ঞান অন্য কথা বলছে। স্মার্টফোনের এলইডি স্ক্রিন থেকে নির্গত নীলচে আলো মেলাটোনিন নামক হরমোনের ক্ষরণে বাধা দেয়। এই হরমোন আমাদের ঘুমোতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয়, অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম প্রস্টেট ও স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকিও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই রাতে বিছানায় যাওয়ার অন্তত এক ঘণ্টা আগে ফোন থেকে দূরে থাকুন।

২. চা বা কফি পান করা:

ক্যাফিন একটি পরিচিত উত্তেজক পানীয়। ঘুমের আগে চা বা কফি পান করলে শরীরে অ্যাড্রিনালিন হরমোনের ক্ষরণ বেড়ে যায়। এর ফলে ঘুম আসতে সমস্যা হয় এবং ঘুমের গভীরতাও কমে যায়। তাই রাতের বেলা চা বা কফি এড়িয়ে চলুন। প্রয়োজনে ভেষজ চা পান করতে পারেন।

৩. ফ্যাট জাতীয় খাবার গ্রহণ:

‘জার্নাল অফ ক্লিনিকাল স্লিপ মেডিসিন’-এর একটি গবেষণা অনুযায়ী, ঘুমোতে যাওয়ার আগে ফ্যাট জাতীয় খাবার খেলে ঘুমের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফ্যাট হজম হতে বেশি সময় নেয়, ফলে শরীর দীর্ঘক্ষণ ধরে কাজ করতে থাকে এবং ঘুম আসতে দেরি হয়। রাতের বেলা হালকা ও সহজে হজমযোগ্য খাবার গ্রহণ করাই শ্রেয়।

৪. ধূমপান:

ধূমপান স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর, একথা সকলেরই জানা। এটি সরাসরি আমাদের শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে। তবে শুধু তাই নয়, ধূমপান ঘুমেরও শত্রু। নিকোটিন একটি উত্তেজক পদার্থ যা ঘুম আসতে বাধা দেয় এবং ঘুমের গুণমান কমিয়ে দেয়। রাতে ভালো ঘুমের জন্য ধূমপান ত্যাগ করা জরুরি।

৫. ভয়ের সিনেমা দেখা বা ভৌতিক গল্প পড়া:

অনেকেরই রাতে ভয়ের সিনেমা দেখতে বা অ্যাডভেঞ্চারধর্মী বই পড়তে ভালো লাগে। কিন্তু এই ধরনের কার্যকলাপ শরীরে অ্যাড্রিনালিনের ক্ষরণ বাড়িয়ে দেয়। ফলে মন উত্তেজিত হয়ে ওঠে এবং ঘুম আসতে সমস্যা হয়। রাতে শান্ত ও হালকা কিছু পড়া বা দেখা যেতে পারে যা মনকে শান্ত রাখে।

এই বিষয়গুলো কিছুদিন মেনে চললে আশা করা যায় রাতে আপনার ঘুম ভালো হবে এবং আপনি একটি সতেজ সকালের জন্য প্রস্তুত হতে পারবেন। সুস্থ জীবনের জন্য পর্যাপ্ত ঘুম অত্যন্ত জরুরি। তাই ঘুমের ব্যাপারে সচেতন হন এবং সঠিক অভ্যাস গড়ে তুলুন।