রাতে ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম? হতে পারে গুরুতর রোগের ইঙ্গিত!

গরমের দিন ছাড়া রাতে ঘুমের মধ্যে অতিরিক্ত ঘাম হওয়াটা স্বাভাবিক নয়। অনেকেই একে সাধারণ ঘটনা বলে এড়িয়ে যান, কিন্তু এর পেছনে লুকিয়ে থাকতে পারে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে শুরু করে জটিল কোনো রোগ। চিকিৎসকরা সতর্ক করছেন, যদি প্রায়শই রাতে হঠাৎ করে প্রচণ্ড ঘাম হয়, তবে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
রাতে ঘামের সম্ভাব্য কিছু কারণ:
গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা: যদিও এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট গবেষণা কম, তবে চিকিৎসকরা বলছেন, গ্যাস্ট্রিকের কারণেও রাতে ঘুমের মধ্যে শরীর ঘামতে পারে। হজম প্রক্রিয়া ঠিক রাখতে ঘুমানোর অন্তত ২ ঘণ্টা আগেই রাতের খাবার শেষ করার এবং ভাজাপোড়া খাবার পরিহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিভিন্ন ক্যান্সার: রাতের ঘাম কিছু ধরণের ক্যান্সারের একটি সাধারণ উপসর্গ হতে পারে। এর মধ্যে সবচেয়ে পরিচিত হলো লিম্ফোমা, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার লিম্ফ নোড, প্লীহা, অস্থি মজ্জা ও থাইমাসের মতো অংশে শুরু হয়। হজকিনের লিম্ফোমায় আক্রান্ত প্রায় এক-চতুর্থাংশ রোগীর রাতে ঘাম হওয়ার ইতিহাস আছে। এছাড়াও, প্রোস্টেট ক্যান্সার, কিডনি ক্যান্সার, ডিম্বাশয় এবং অণ্ডকোষের কিছু টিউমারও রাতে ঘামের কারণ হতে পারে। বিরল ক্যান্সার কার্সিনয়েড সিন্ড্রোমের একটি ক্লাসিক উপসর্গও হলো রাতে ঘাম।
যক্ষ্মা (টিবি): যারা যক্ষ্মায় ভোগেন, তাদের প্রায় অর্ধেক রোগীরই রাতে ঘাম হয়। এই ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ফুসফুসে বাসা বাঁধে। যক্ষ্মা গুরুতর পর্যায়ে গেলে কাশির সঙ্গে রক্ত এবং রঙিন কফ বের হতে পারে। পাশাপাশি, জ্বর, ক্লান্তি, দুর্বলতা এবং ক্ষুধামন্দার মতো লক্ষণও দেখা যায়।
বিভিন্ন সংক্রমণ: বিভিন্ন ধরণের সংক্রমণের কারণেও রাতে ঘাম হতে পারে। কোভিড-১৯ এর ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও রাতে প্রচণ্ড ঘামে ওঠার উপসর্গ অনুভব করেছেন। এছাড়াও, ব্যাকটেরিয়াল এন্ডোকার্ডাইটিস (হৃদপিণ্ড ও হৃদপিণ্ডের ভালভের ভেতরের আস্তরণের সংক্রমণ) এবং অস্টিওমাইলাইটিস (হাড়ের সংক্রমণ) এর মতো কিছু সংক্রমণও রাতে অতিরিক্ত ঘামের কারণ হতে পারে।