রাতে কাশির যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়? কারণ জানুন এবং উপশমের সহজ উপায়গুলো জেনে নিন

রাতে কাশির যন্ত্রণায় ঘুম ভেঙে যায়? কারণ জানুন এবং উপশমের সহজ উপায়গুলো জেনে নিন
কলকাতা, ৮ই মে, ২০২৫, সকাল ১১:৩৪: কাশি একটি অতি পরিচিত উপসর্গ, যা মূলত শ্বাসতন্ত্রের রোগের ইঙ্গিত দেয়। এটি অত্যন্ত বিরক্তিকর এবং কষ্টদায়ক একটি স্বাস্থ্য সমস্যা। অনেক সময় কাশির তীব্রতায় দিনের বেলা বিশ্রাম নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়ে, বিশেষত রাতের বেলায়। কিন্তু কেন রাতের বেলা কাশির প্রকোপ এত বেড়ে যায়?

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সহজ পদক্ষেপ মেনে চললে কাশির তীব্রতা কিছুটা কমানো যায়। এর মধ্যে রয়েছে কুসুম গরম জল পান করা, তরল খাবার গ্রহণ করা, প্রয়োজনীয় ওষুধ সেবন করা এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া ইত্যাদি। তবে অনেক সময় এসব করেও রাতের বেলা কাশি থেকে রেহাই পাওয়া যায় না।

শরীরকে যেকোনো সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার সুযোগ দিতে বিশ্রাম অপরিহার্য। আর ঘুমের মাধ্যমেই শরীর সবচেয়ে ভালো বিশ্রাম পায়। তবে রাতের বেলা বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই যেন কাশির তীব্রতা আরও বেড়ে যায়, যার ফলে ঘুমানো কঠিন হয়ে পড়ে। এর প্রধান কারণগুলো হলো:

১. মাধ্যাকর্ষণ (গ্রাভিটি): জর্জিয়া ইনফেকশাস ডিজিজের ফিজিশিয়ান মিশেল ব্লাসের মতে, আমরা যখন শুয়ে থাকি, তখন আমাদের গলায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে শ্লেষ্মা জমতে শুরু করে। আর এই শ্লেষ্মা জমে যাওয়ার কারণেই কাশির উদ্রেক হয়। এই সমস্যা এড়ানোর একটি সহজ উপায় হলো, শরীরের ওপরের অংশ সামান্য উঁচু করে শোওয়া। এর জন্য আপনি অতিরিক্ত বালিশ অথবা ওয়েজ পিলো ব্যবহার করতে পারেন, যা গলায় শ্লেষ্মা জমতে বাধা দেবে।

২. শুষ্ক বাতাস: শুষ্ক বাতাস আমাদের নাক এবং গলায় অস্বস্তি তৈরি করে, যার ফলে রাতে কাশির প্রকোপ বাড়তে পারে। রাতের বেলা কাশির তীব্রতা কমাতে আপনার শোবার ঘরে হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহার করতে পারেন। এটি ঘরের বাতাসকে আর্দ্র রাখবে এবং শ্বাস-প্রশ্বাস নেওয়া সহজ করবে। তবে হিউমিডিফাইয়ার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যে, এতে ব্যবহৃত জল যেন জীবাণুমুক্ত হয়। অন্যথায়, বাতাসে জীবাণু ভেসে বেড়াতে পারে এবং অন্যান্য রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

রাতে কাশি কমাতে যা করতে পারেন:

কফ ড্রপ বা লজেন্স চুষুন: ঘুমানোর আগে একটি কফ ড্রপ (থ্রোট লজেন্স) চুষতে থাকুন। হার্ড ক্যান্ডিও এক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে। এটি আপনার গলায় প্রশান্তি দেবে এবং কাশির তীব্রতা কমাবে।

প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন: বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করুন। আপনার খাদ্যতালিকায় বেশি করে তরল খাবার অন্তর্ভুক্ত করুন। জল এবং তরল খাবার গলার শ্লেষ্মা পাতলা করতে সাহায্য করে, যা আপনাকে আরাম দেবে।

মধু ব্যবহার করুন: কাশির প্রবণতা কমাতে উষ্ণ জল বা চায়ের সঙ্গে মধু মিশিয়ে খান। শুধু মধুও খেতে পারেন। তবে মনে রাখবেন, এক বছরের কম বয়সের শিশুদের মধু খাওয়ানো উচিত নয়।

কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন:

বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ ঠান্ডা বা ফ্লু জনিত কাশি সাধারণত বেশি দিন স্থায়ী হয় না এবং ৪-৫ দিনের মধ্যেই সেরে যায়। এই ক্ষেত্রে সাধারণত চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার প্রয়োজন হয় না। তবে যদি কাশি এক সপ্তাহের বেশি সময় ধরে থাকে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

দীর্ঘস্থায়ী কাশি অনেক সময় অ্যালার্জি, গ্যাস্ট্রোইসোফ্যাজিয়াল রিফ্লাক্স ডিজিজ (জিইআরডি), অ্যাজমা, ক্রনিক অবস্ট্রাক্টিভ পালমোনারি ডিজিজ (সিওপিডি) অথবা ক্রনিক সাইনুসাইটিসের মতো গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার কারণেও হতে পারে। ক্রনিক ব্রঙ্কাইটিস থেকেও কাশি হতে পারে। তাই দীর্ঘ সময় ধরে কাশিতে ভুগলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন এবং সঠিক রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসা শুরু করুন।