যৌন মিলনের মাধ্যমেই সারবে যত রোগ? জেনেনিন গবেষণার মতামত

সেক্স। শব্দটা শুনলেই কেমন একটা শরীরের গন্ধ নাকে চলে আসে, তাই না? চোখের সামনে কিলবিল করে বেড়ায় সুপ্ত ইচ্ছেগুলো। কিন্তু যারা মনে করেন সেক্স শুধু শরীরে খেলা, এর বাইরে তার কোনও ভূমিকা নেই-তারা একদম ভুল ভাবছেন। আপনি জানেনই না আপনার সঙ্গীর সঙ্গে কাটানো অন্তরঙ্গ মুহূর্তগুলো আদতে আপনার শরীরের কতটা উপকার করছে। পড়েই দেখুন না প্রতিবেদনটা।

১. যত বেশি সেক্স করবেন, আপনি তত কম অসুস্থ হবেন। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, সেক্সচুয়ালি যারা যত বেশি অ্যাক্টিভ, তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তত বেশি। বিভিন্ন জীবানু, সংক্রমণের সঙ্গে লড়ার জন্য তাদের অ্যান্টিবডি বেশি সক্রিয়।

২. আপনার ব্লাড প্রেশার হাই? জানেন, ব্লাড প্রেশার কমাতে সাহায্য করে সেক্স। বহু সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, লোয়ার সিস্টোলিক ব্লাড প্রেশারের সঙ্গে ইন্টারকোর্সের একটা যোগাযোগ রয়েছে। সেক্স কখনওই ওষুধের মতো ব্লাড প্রেশার কমাতে পারবে না, তবে সুস্থ ডায়েট, এক্সারসাইজের মতোই ব্লাড প্রেশারকে নিয়ন্ত্রণে রেখে আপনার শরীরকে সুস্থ রাখতে সাহায্য করবে সেক্স।

৩. সেক্সকে কিন্তু শরীরচর্চা হিসাবেও ধরা হয়। ক্যালোরি কমাতে সেক্সের যে বিশেষ ভূমিকা রয়েছে, তা জানা ছিল নাকি? বসে বসে টিভি দেখে এক মিনিটে আপনি যদি ১ ক্যালরি বার্ন করেন, সেক্স সেখানে মিনিটে ৫ ক্যালরি কমাতে পারে। হার্ট রেট ও বিভিন্ন মাসল স্বাভাবিক রাখতেও সেক্স মোক্ষম দাওয়াই। তবে জিমের কাজ সেক্স করবে এমনটা আবার ভেবে বসবেন না।

৪. এস্ট্রোজেন আর টেস্টোস্টেরনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সেক্সচুয়াল অ্যাকটিভিটির ভূমিকা যথেষ্ট। এই হরমোনগুলির ভারসাম্য নষ্ট হলে হার্ট অ্যাটাকের মতো ঘটনাও হতে পারে। হতে পারে অস্টিওপরোসিস। পরীক্ষা করে দেখা গিয়েছে, যেসব পুরুষ সপ্তাহে অন্তত ২ বার সেক্স করেন, অন্যদের তুলনায় হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুর ঝুঁকি তাদের ক্ষেত্রে অন্তত ৫০ শতাংশ কম।

৫. যৌন উত্তেজনা, হস্তমৈথুন, অর্গাজম শরীরের বিভিন্ন যন্ত্রণাকে নিয়ন্ত্রণে রাখে। অর্গাজমের ফলে যে হরমোনের ক্ষরণ হয়, তা বিভিন্ন যন্ত্রণার হাত থেকে আপনাকে দূরে রাখতে পারে। বহু মহিলাই স্বীকার করেছেন, হস্তমৈথুনের যৌন উত্তেজনা মেনস্ট্রুয়াল ক্র্যাম্প, আর্থরাইটিসের ব্যাথা, এমনকী মাথার যন্ত্রণাও অনেক কমায়।

৬. দেখা গিয়েছে যেসব পুরুষের বীর্যপাত (সঙ্গম, মাস্টারবেশন বা যেভাবেই হোক) বেশি হয়, মাসে অন্তত ২১ বার, তাদের প্রস্টেট ক্যান্সারের সম্ভাবনা কম থাকে।

৭. অর্গাজমের সময় প্রোল্যাকটিন নামে এক ধরনের হরমোন ক্ষরণ হয়। যা আপনার শরীরকে রিল্যাক্স করতে সাহায্য করে। এর ফলে ঘুম ভাল হয়। স্ট্রেস কমাতেও ভূমিকা রয়েছে সেক্সের।

৮. গবেষকরা বলছেন, মস্তিষ্ক ক্ষমতাশালী করতে সেক্স বিশেষ ভূমিকা নেয়। চিন্তাভাবনার গোড়ায় শান দিতে সেক্সের ভূমিকা কিন্তু অনস্বীকার্য।

৯. নিয়মিত যৌনজীবন মানেই আপনার চেহারায় তারুণ্যের আভা। সবটাই হরমোনের ব্যাপার কী না! সপ্তাহে অন্তত চারবার যাঁরা সেক্স করেন, গবেষণা বলছে তাঁদের মোট বয়সের থেকে নাকি কম করে সাত বছরের কম বয়সী মনে হয়।

১০. সেক্সের সময় অক্সিটোসিন নামে হরমোন নির্গত হয়। আদরের নাম ‘লাভ হরমোন’। যা আপনার সঙ্গীর সঙ্গে আপনার সম্পর্কের বন্ধনকে আরও পোক্ত করে তোলে। সম্পর্কে এক্সট্রা স্পাইস হিসাবে সেক্সের ভূমিকা অস্বীকার করবেন, এমন নিন্দুক বোধহয় পাওয়া ভার।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy