মুখ ধোয়ার সময় সাবান ব্যবহার করছেন? অজান্তেই ডেকে আনছেন ত্বকের বিপদ!

বাইরে থেকে ঘরে ফিরে কিংবা স্নানের সময় হাতের কাছে থাকা সাবান দিয়ে মুখ ধোয়ার অভ্যাস অনেকেরই আছে। তবে এই সাধারণ অভ্যাসটি আপনার ত্বকের কতটা ক্ষতি করছে, তা কি আপনি জানেন?
এ বিষয়ে দিল্লির ডিরেক্টর স্কিনেশন ক্লিনিকের চর্মরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. স্বাতি আগরওয়াল সতর্ক করে জানিয়েছেন, ত্বকে সাবান ব্যবহারের আগে দু’বার ভাবা উচিত। বিশেষ করে সুগন্ধিযুক্ত সাবান মুখের ত্বকসহ শরীরের বিভিন্ন অংশের ত্বকের জন্য ক্ষতিকর।
ডা. আগরওয়াল সাবান ব্যবহারের চারটি প্রধান ক্ষতির কারণ উল্লেখ করেছেন:
১. উপকারী লিপিড অপসারণ: সাবান ত্বকের কোষ থেকে প্রয়োজনীয় এবং উপকারী লিপিড বের করে নেয়, যা ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত জরুরি। এর ফলে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ হয়ে যায়।
২. পিএইচ স্তরের পরিবর্তন: সাবান ত্বকের স্বাভাবিক পিএইচ স্তরের ভারসাম্য নষ্ট করে। ত্বকের আদর্শ শারীরবৃত্তীয় পিএইচ হলো ৫.৫, যা ত্বকের প্রতিরক্ষামূলক অ্যাসিডের স্তর তৈরি করে। অন্যদিকে, সাবানের ক্ষারীয় পিএইচ ৯ পর্যন্ত হতে পারে। এই উচ্চ পিএইচ ত্বকের উপকারী ব্যাকটেরিয়া মেরে ফেলে এবং ত্বকের উপরের স্তরের এনজাইমের কার্যকারিতা পরিবর্তন করে ত্বককে আরও শুষ্ক ও রুক্ষ করে তোলে।
৩. ত্বকের উপরিস্তরের ক্ষতি: সাবান ত্বকের উপরের স্তরকে অতিরিক্ত হাইড্রেট করে এবং ত্বকের গঠনগত উপাদান অর্থাৎ কেরাটিনোসাইটের ক্ষতি করে। এর ফলে কোষ এবং কোলাজেন ফাইবার ফুলে যায়, যা ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতা ব্যাহত করে।
৪. কেরাটিন প্রোটিনের বিকাশ: সাবান ব্যবহারের কারণে ত্বকের কেরাটিন প্রোটিনের অস্বাভাবিক বিকাশ ঘটে। এর ফলে ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কমে যায় এবং ত্বক আরও শুষ্ক হয়ে ওঠে।
এই সমস্ত ক্ষতিকর প্রভাবের কারণে ত্বকের স্বাভাবিক কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত হয়, যার ফলে ত্বক আরও রুক্ষ, শুষ্ক ও প্রাণহীন হয়ে পড়ে। ডা. আগরওয়াল পরামর্শ দিয়েছেন, মুখ ধোয়ার সময় অবশ্যই ভালো মানের ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। মুখ ধোয়ার জন্য উপযুক্ত পিএইচ মাত্রা হলো ৫.৫।
প্রতিদিন দুবার ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ ধুলে ত্বকের ময়লা, দিনের বেলায় জমা হওয়া দূষণকারী উপাদান, মেকআপ, তেল এবং অন্যান্য নোংরা সহজেই দূর করা সম্ভব। তবে এক্ষেত্রে অবশ্যই ভালো মানের এবং আপনার ত্বকের ধরন অনুযায়ী ফেসওয়াশ ব্যবহার করার উপর জোর দিয়েছেন তিনি। তাই, ত্বকের স্বাস্থ্য রক্ষায় আজ থেকেই সাবানের পরিবর্তে সঠিক ফেসওয়াশ ব্যবহার করার অভ্যাস গড়ে তুলুন।