মশার উপদ্রব? রাসায়নিক নয়, ভরসা রাখুন এই ৫টি গাছের উপর!

মশার কামড় থেকে মুক্তি চান না এমন মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন। ডেঙ্গু, ম্যালেরিয়া, চিকুনগুনিয়ার মতো মারাত্মক রোগের বাহক এই মশা। শীতের শেষে বসন্তের শুরুতেই এদের উপদ্রব বেড়েছে, আর তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ঘন ঘন লোডশেডিং। অন্ধকার নামলেই মশার জ্বালায় ঘরে টেকা দায় হয়ে ওঠে।

রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহার করে সাময়িকভাবে মশা, মাছি বা টিকটিকির উপদ্রব ঠেকিয়ে রাখা গেলেও, এর নিত্যদিনের ব্যবহার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন কিছু গাছ আছে যা বাড়িতে রাখলে মশার উপদ্রব অনেকটাই কমানো সম্ভব। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কোন কোন গাছ আপনাকে মশার জ্বালা থেকে মুক্তি দিতে পারে:

মশা তাড়াতে সহায়ক ৫টি গাছ:
১. নিম: নিমের ঔষধি গুণ সুবিদিত। নিমের তেল ত্বকের জন্য উপকারী এবং এতে মশা তাড়ানোর বিশেষ গুণও রয়েছে। মশা, মাছি, পিঁপড়ে সহ বহু কীটপতঙ্গের জন্য এটি যম স্বরূপ। মশার কামড় থেকে বাঁচতে সমপরিমাণ নিমের তেল ও নারকেল তেল মিশিয়ে হাতে-পায়ে লাগাতে পারেন। এর গন্ধে মশা আপনার আশেপাশে আসবে না।

২. তুলসী গাছ: তুলসী গাছ কেবল রোগজীবাণু নয়, মশাকেও দূরে রাখতে সাহায্য করে। এর ঔষধি গুণাগুণ অপরিসীম। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাড়িতে তুলসী গাছ রাখলে মশা, মাছি বা অন্যান্য পোকামাকড়ের উপদ্রব অনেকটাই কম থাকে।

৩. সিট্রোনেলা: মশা, মাছি, পিঁপড়ের উপদ্রব কমাতে অনেকেই ঘর মোছার জলে সিট্রোনেলা তেল মিশিয়ে থাকেন। সাইম্বোপোগন প্রজাতির পাতা ও কাণ্ড থেকে প্রাপ্ত এই অপরিহার্য তেলটি এর বৈশিষ্ট্যপূর্ণ গন্ধের কারণে পোকামাকড় তাড়াতে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হয়।

৪. পুদিনা: গরমকালে পুদিনা গাছের গন্ধ মশা, মাছি, পিঁপড়ের মতো পোকামাকড়ের উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে অত্যন্ত কার্যকর। একটি ছোট গ্লাসে সামান্য জল নিয়ে তাতে ৫-৬টি পুদিনা পাতা রেখে খাবার টেবিলে রাখুন। প্রতি তিন দিন অন্তর জল বদলে দেবেন। শুধু মশাই নয়, পুদিনার গন্ধ আরও অনেক ধরনের পোকামাকড়কে ঘর থেকে দূরে রাখে।

৫. লেমনগ্রাস: বাড়িতে লেমনগ্রাস গাছ থাকলে হয়তো আলাদা করে ‘রুম স্প্রে’ ব্যবহার করার প্রয়োজনই হবে না। এর সুগন্ধ মশা, মাছি এবং পোষা প্রাণীর গায়ে থাকা পরজীবী পোকামাকড়ের উপদ্রব কমাতেও সাহায্য করে।

এই প্রাকৃতিক পদ্ধতিগুলো আপনার বাড়িতে মশার উপদ্রব কমাতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে এবং রাসায়নিক স্প্রে ব্যবহারের ঝুঁকি থেকেও আপনাকে মুক্ত রাখতে পারে।