মধুমেহ রোগীরা কি আলু খেতে পারবেন? জানুন গবেষকদের দাবি

মধুমেহ রোগীদের অনেক নিয়ম মেনে চলতে হয়। কারণ, বিশেষজ্ঞরা জানান যে, এই রোগ একবার শরীরে বাসা বাঁধলে তা চিরস্থায়ী। সারাজীবন এই রোগকে শরীরে বয়ে নিয়ে যেতে হবে। তবে, চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চললে এবং খাদ্যাভ্যাস ও লাইফস্টাইলে নজর দিলে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে মধুমেহকে। অনেক মধুমেহ রোগীদেরই মনে সংশয় থাকে যে, তাঁরা কি আলু খেতে পারবেন? খেলে কীভাবেই বা খাবেন। সে সম্পর্কে বিশদে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

মধুমেহ রোগীদের শরীরে কী প্রভাব ফেলে আলু?

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আলু একেবারেই মধুমেহ রোগকে বাড়ায় না। বরং নিয়ন্ত্রণে রাখে। তবে তার জন্য জানতে হবে ম্যাজিক রেসিপি। রক্তে শর্করা বাড়লে, প্লেট থেকে জিলিপি সন্দেশ বা আলু উধাও। গরম ভাতে আলু সিদ্ধ খাওয়া হয় না। চিকিৎসকেরা কী বলছেন, সেদিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন এমন ধারণা থাকলে। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, আলুর জাদুতেই রোখা যাবে ব্লাড সুগার। এতদিন হয়তো ভাবছিলেন, আলুর চিপস খেলে মধুমেহ রোগীদের স্বাস্থ্যে ক্ষতিকর প্রভাব পড়তে পারে। তবে, গবেষকদের মতে, মোটেই তা নয়। তাঁরা জানাচ্ছেন, আলু রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

গবেষকরা জানাচ্ছেন, আলু, কাঁচা কলার মতো সবজিতে রয়েছে এক ধরনের উপকারী উপাদান। সেই উপকারী উপাদান নিয়ন্ত্রণ করে রক্তের গ্লুকোজের মাত্রা। ফ্যাটি অ্যাসিড চেন কোলনের কোষগুলিতে এনার্জি সোর্স হিসেবে কাজ করে সেই উপাদান। খাদ্যনালীতে অস্বাভাবিক কোষ তৈরিতে বাধা দেয়। গবেষণা বলেছে, হজম হয় এমন কার্বোহাইড্রেট থেকে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ খেলে মধুমেহ নিয়ন্ত্রণে থাকে। হার্টের অসুখ নিয়ন্ত্রণেও সাহায্য করে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চ। তাহলে কি আলুর মুখরোচক চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, আলুর যে কোনও পদই খাওয়া যাবে? গবেষণায় দেখা গেছে সিদ্ধ করা আলু ঠাণ্ডা হলে তাতে রেজিস্ট্যান্ট স্টার্চের মাত্রা বাড়ে। তাই, মধুমেহ ভয় দূর করে দু একটা আলুর পদ খাওয়া যেতেই পারে। তবে, অবশ্যই তা নিয়ন্ত্রণে রেখে। যেকোনও কিছুর জন্যই মধুমেহ রোগীদের দরকার চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy