ভুল টুথব্রাশ ব্যবহার করছেন না তো? কত দিন পর পর তা বদলানো জরুরি, জানলে চমকে যাবেন!

কালের ঘুম ভাঙার পর আমাদের নিত্যদিনের রুটিনের প্রথম এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হলো দাঁত মাজা। একটি ঝকঝকে ও সুন্দর হাসি আমাদের ব্যক্তিত্বের বড় এক পরিচায়ক। কিন্তু আমরা অনেকেই জানি না যে, প্রতিদিন যে টুথব্রাশটি আমরা ব্যবহার করছি, তারও একটি নির্দিষ্ট আয়ুষ্কাল রয়েছে। অনেকেই বছরের পর বছর একই ব্রাশ ব্যবহার করে যান, যা অজান্তেই আমাদের মুখের ভেতরে নানা ধরনের ব্যাকটেরিয়া ও জীবাণু ছড়িয়ে দেয়। দন্ত চিকিৎসকদের মতে, সামান্য এই অবহেলা শুধু মুখের স্বাস্থ্য নয়, বরং সামগ্রিক শরীরের ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

নিয়মিত ব্যবহারের ফলে টুথব্রাশের ব্রিসল বা সুচালো অংশগুলো দ্রুত দুর্বল ও বাঁকা হয়ে যায়। এর ফলে দাঁতের ফাঁকে জমে থাকা প্লাক বা ময়না সঠিকভাবে পরিষ্কার হয় না। তাছাড়া, বাথরুমের আর্দ্র পরিবেশে খোলা জায়গায় টুথব্রাশ রেখে দেওয়ার কারণে সেখানে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া এবং ছত্রাক দ্রুত জন্ম নেয়। যখন আমরা ওই ব্রাশ দিয়ে প্রতিদিন মুখ পরিষ্কার করি, তখন সেই লক্ষ লক্ষ জীবাণু সরাসরি আমাদের পরিপাকতন্ত্র ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে। এর ফলে মাড়ি থেকে রক্তপাত, মুখের দুর্গন্ধ, জিঞ্জিভাইটিস কিংবা মারাত্মক সংক্রমণ পর্যন্ত হতে পারে।

সাধারণত একজন মানুষের প্রতি তিন থেকে চার মাস অন্তর টুথব্রাশ পরিবর্তন করা উচিত। তবে যদি এর আগের ব্রিসলগুলো ছড়ানো বা নষ্ট হয়ে যায়, তবে তার আগেই সেটি বদলে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ। বিশেষ করে কোনো ধরনের সর্দি-কাছিম, ফ্লু বা ভাইরাল সংক্রমণের পর সুস্থ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই পুরোনো ব্রাশটি ফেলে দেওয়া বাধ্যতামূলক। এছাড়া ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে ব্রাশের ব্রিসল দ্রুত নষ্ট হয়, তাই তাদের টুথব্রাশ অপেক্ষাকৃত দ্রুত পরিবর্তন করতে হয়। দাঁতের সঠিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ব্রাশ ব্যবহারের পর সবসময় তা ভালোভাবে ধুয়ে শুকনো ও পরিষ্কার স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত।

পরিশেষে বলা যায়, মুখের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখতে টুথব্রাশ পরিবর্তনের মতো ছোট ছোট অভ্যাসগুলোর প্রতি বিশেষ নজর দেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন। আজই আপনার বাথরুমে থাকা ব্রাশটির দিকে তাকান এবং এর বয়স হিসাব করুন। একটু সচেতনতা এবং সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমেই আপনি আপনার অমূল্য হাসিকে রাখতে পারেন উজ্জ্বল ও সম্পূর্ণ সুরক্ষিত।