বিশের কোঠাতেই পড়তে পারে বয়সের ছাপ! ঠেকানোর সহজ কৌশল জানুন

বয়স বাড়বে, আর তার ছাপ চেহারায় পড়বে—এটা প্রকৃতির স্বাভাবিক নিয়ম। বয়স কম থাকলে ত্বকে কোলাজেন উৎপাদন এবং কোষ বিভাজন দ্রুত হয়। কিন্তু সময়ের সাথে সাথে এই দুটি প্রক্রিয়াই ধীর হয়ে যায়। ফলে ত্বক তার স্থিতিস্থাপকতা হারায় এবং আগের মতো মসৃণতা ও উজ্জ্বলতা থাকে না।
অনেকেই ভাবেন বলিরেখা বুঝি একদিন হঠাৎ করেই ঘুম থেকে উঠে চোখে পড়ে। তবে মজার ব্যাপার হলো, চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে শুরু করতে পারে আপনার বয়স যখন বিশের কোঠায়! বাইরে থেকে দৃশ্যমান হওয়ার অনেক আগে থেকেই ত্বকের গভীরে এর প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যায়।
সাধারণত, নাকের দুই পাশ এবং ঠোঁটের চারপাশে প্রথম বলিরেখা দেখা যায়। এরপর ধীরে ধীরে গলা এবং কপালে স্পষ্ট ভাঁজ পড়তে শুরু করে। ক্রমশ চোখের নিচের ত্বক কালচে হতে আরম্ভ করে। যারা দিনের বেশিরভাগ সময় রোদে কাটান, তাদের ক্ষেত্রে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেশি হয়। সূর্যের ক্ষতিকর আল্ট্রা ভায়োলেট রশ্মির প্রভাবে ত্বকের গভীরে মেলানিনের উৎপাদন বেড়ে যায়। এর ফলেই পিগমেন্টেশন বা ত্বকের অসম রঙের সমস্যা দেখা দেয়। বয়স বাড়ার সাথে সাথে ত্বক ক্রমশ ঢিলে হতে শুরু করে।
আপনার চেহারায় বয়সের ছাপ কতটা দ্রুত পড়বে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে আপনার বংশগতির ধারার উপর। যদি পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও তাড়াতাড়ি ত্বক বুড়িয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাহলে আপনিও এর ঝুঁকিমুক্ত নন। তবে এই প্রক্রিয়াকে অবশ্যই ধীর করা সম্ভব।
চেহারায় বয়সের ছাপ পড়তে দিতে না চাইলে কিছু সহজ নিয়ম মেনে চলা জরুরি:
পর্যাপ্ত জল পান: ত্বকের আর্দ্রতার অভাব হলে সবচেয়ে দামি ক্রিমও আপনার সমস্যার সমাধান করতে পারবে না। তাই ত্বককে সতেজ রাখতে নিয়মিত প্রচুর পরিমাণে জল পান করুন।
স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ: ফল, শাকসবজি, সালাদ এবং স্যুপের মতো অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ খাবার বেশি করে খান। অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক।
ভিটামিন সি ও ই সমৃদ্ধ খাবার: খেয়াল রাখবেন যেন আপনার খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত পরিমাণে ভিটামিন সি এবং ই থাকে। সাপ্লিমেন্টের পরিবর্তে প্রাকৃতিক উৎস থেকে এই ভিটামিনগুলো গ্রহণ করার চেষ্টা করুন। অতিরিক্ত তেল-মশলাযুক্ত খাবার পরিহার করুন।
প্রাকৃতিক প্রসাধনীর ব্যবহার: কেমিক্যালযুক্ত প্রসাধনীর পরিবর্তে প্রাকৃতিক সমাধানের উপর ভরসা রাখুন। সাবান বা ফেস ওয়াশের বদলে দুধের সর, ময়দা ও কাঁচা হলুদ মিশিয়ে ত্বক পরিষ্কার করতে পারেন। টোনার হিসেবে গোলাপজল ব্যবহার করুন। মুখ পরিষ্কার করার পর ভালো মানের প্রাকৃতিক তেল এবং ময়েশ্চারাইজার লাগান। ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে গন্ধহীন ও রংবিহীন সানস্ক্রিন বেছে নিন।
নিয়মিত সানস্ক্রিন ব্যবহার: বাইরে থাকলে প্রতি দুই ঘণ্টা অন্তর এবং বাড়িতে বা অফিসে দিনের আলো থাকাকালীন অন্তত দুবার সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। ত্বক যেন কখনোই শুকনো বা টানটান না থাকে, সেদিকে খেয়াল রাখুন।
এই সহজ নিয়মগুলো মেনে চললে আপনি আপনার ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে এবং বয়সের ছাপের প্রক্রিয়াকে ধীর করতে পারবেন। মনে রাখবেন, সঠিক যত্ন আপনার ত্বককে দীর্ঘকাল সতেজ ও সুন্দর রাখতে সহায়ক।