বন্ধুর সাথে নয়, পোষ্যের সাথে কফি ডেট! শহরের বুকে কেন হু হু করে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এই ট্রেন্ড?

শহরের ক্যাফে মানেই একসময় ছিল কফি কাপে চুমুক দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা কিংবা কাজের ফাঁকে কিছুটা সময় কাটানো। কিন্তু বর্তমানে সেই ট্রেন্ডে এসেছে এক বিরাট পরিবর্তন। এখন ক্যাফে মানে শুধু মানুষের জমায়েত নয়, বরং সেখানে সমানভাবে ওয়েলকাম করা হচ্ছে আপনার চারপেয়ে আদুরে পোষ্যটিকেও। টেবিলে মানুষের কফির পাশাপাশি এখন জায়গা করে নিচ্ছে কুকুরের বিশেষ ট্রিট কিংবা ডগ আইসক্রিম। কোথাও আবার ঘটা করে পালন করা হচ্ছে পোষ্যের জন্মদিন! বিশেষ করে যাঁদের ফ্ল্যাট সংস্কৃতি বা ব্যস্ততার কারণে বাড়িতে পোষ্য রাখার জো নেই, তাঁদের কাছে এই ‘পেট ক্যাফে’গুলি হয়ে উঠেছে স্ট্রেস কমানোর ও প্রিয় সঙ্গ পাওয়ার আদর্শ ঠিকানা।

বাড়ছে পোষ্যপ্রীতি ও খরচের বহর গ্লোবাল মার্কেট রিসার্চ কোম্পানি ইউরোভোনিটার ইন্টারন্যাশনাল-এর তথ্য অনুযায়ী, ভারতে পোষ্যপ্রেমের গ্রাফ ঊর্ধ্বমুখী। যেখানে ২০২০ সালে দেশে পোষ্যপ্রেমী ঘরের সংখ্যা ছিল প্রায় ২ কোটি ৭ লক্ষ, সেখানে ২০২৫ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ কোটি ৫৫ লাখে। শুধু তাই নয়, গত এক বছরে অনলাইনে পেট-কেয়ার প্রোডাক্টের চাহিদা বৃদ্ধি প্রমাণ করে যে পোষ্যদের পেছনে খরচ করার মানসিকতা এখন আর কেবল খাবার বা ভ্যাকসিনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সুইগির সাম্প্রতিক তথ্য বলছে, গত এক বছরে বিভিন্ন শহরে পেটস কেয়ারের অর্ডার এক ধাক্কায় অনেকটাই বেড়েছে। বিশেষ করে বেঙ্গালুরু, দিল্লি-এনসিআরের মতো মেট্রো শহরগুলিতে ডগ আইসক্রিম কিংবা প্রিমিয়াম ট্রিটের চাহিদা আকাশছোঁয়া।

শুধু কফি নয়, মিলছে কম্যুনিটি ও মানসিক শান্তি পুণে থেকে শুরু করে দিল্লি-নয়ডা কিংবা ব্যাঙ্গালুরু—সব জায়গাতেই এখন ব্যাঙের ছাতার মতো গড়ে উঠছে এক্সক্লুসিভ ডগ ক্যাফে এবং ডগ বেকারি। উদ্যোক্তাদের মতে, মানুষ এখানে কেবল খেতে আসেন না, আসেন পোষ্যদের সান্নিধ্যে কিছু মুহূর্ত কাটাতে এবং মানসিক ক্লান্তি দূর করতে। অনেক ক্যাফেতে আবার নিয়মিত ডগ অ্যাডপশন ইভেন্ট, বার্থডে পার্টি কিংবা গ্রুমিংয়ের ব্যবস্থাও থাকে। বিদেশের মাটিতে যেমন নিউইয়র্কের বোরিস অ্যান্ড হর্টনের মতো ক্যাফেগুলি কম্যুনিটি স্পেস তৈরি করে হাজার হাজার পোষ্যকে নতুন ঘর খুঁজে দিয়েছে, সেই একই সংস্কৃতির হাওয়া এখন দেশের বড় শহরগুলোতেও বেশ ভালোভাবেই লাগতে শুরু করেছে।