ফ্যাশন ও স্বাস্থ্যের যুগলবন্দী, নাক ও কানের গহনার নেপথ্যে বিজ্ঞান

আজকাল ফ্যাশন মানেই সাবেকি শাড়ি, সঙ্গে মানানসই নাকে-কানে দুল। কিন্তু অনেকেই হয়তো জানেন না যে এই অলঙ্কার পরিধানের পেছনে রয়েছে অনেক ইতিবাচক দিক, যার বিজ্ঞানসম্মত ব্যাখ্যাও রয়েছে। অবাক লাগলেও, নাক ও কানের দুল আকুপাংচারের মতো কাজ করে, যা শারীরিক ও মানসিক নানা সমস্যার সমাধানে সহায়তা করে।
নাকছাবির স্বাস্থ্যগুণ
১. সন্তান ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বিজ্ঞানসম্মতভাবে মহিলাদের নাকের বাম দিক জনন অঙ্গের সঙ্গে যুক্ত। তাই নাকছাবি পরলে তা সরাসরি জনন প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তার করে। বিশ্বাস করা হয়, এর ফলে নারীদের গর্ভধারণে কোনও সমস্যা থাকলে তা প্রতিহত হয় এবং সহজে গর্ভধারণের পথ প্রশস্ত হয়।
২. প্রসব যন্ত্রণা হ্রাস: ভারতের বহু গ্রামাঞ্চলে এই বিশ্বাস প্রচলিত আছে যে, নাকের বাম দিকে নাকছাবি পরলে প্রসব যন্ত্রণা থেকে মুক্তি মেলে। তাদের মতে, নাকছাবি পরলে সন্তান প্রসব অনেকটাই বেদনাহীন হয়ে যায়।
৩. ঋতুস্রাবকালীন যন্ত্রণা দূরীকরণ: অদ্ভুত শোনালেও, অনেকের ধারণা, নাকের বাম দিকে নাকছাবি পরলে তা ঋতুস্রাবকালীন যন্ত্রণা দূর করতে সাহায্য করে। বাস্তবিকই নাকছাবির সঙ্গে এমন ধরনের যন্ত্রণার বাড়া-কমার সরাসরি যোগ রয়েছে বলে মনে করা হয়।
কানের দুলের চমকপ্রদ উপকারিতা
১. স্মরণশক্তি বৃদ্ধি: কানে দুল পরলে শুধু যে সুন্দর দেখায়, তা কিন্তু নয়! এটি আমাদের স্মরণশক্তি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আসলে, দুল পরার কারণে মস্তিষ্কের বিশেষ বিশেষ অংশে রক্তের প্রবাহ বেড়ে যায়। ফলে অক্সিজেন সমৃদ্ধ রক্তের জোগান বেড়ে যাওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই মস্তিষ্কের ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।
২. রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কানের ঠিক মাঝামাঝি অংশে দুল পরা খুবই উপকারী। কানের এই অংশে ক্রমাগত চাপ পড়তে থাকলে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অন্যদিকে, নারীদের ক্ষেত্রে অনিয়মিত ঋতুস্রাবের সমস্যা দূর হয় কানে দুল পরলে।
৩. স্পার্ম কাউন্ট বৃদ্ধি: অনেক পুরুষকেই কানে দুল পরতে দেখা যায়। কেউ পড়েন বংশ পরম্পরার কারণে, তো কেউ শুধুই ফ্যাশনের জন্য। তবে বেশ কিছু কেস স্টাডিতে দেখা গেছে যে, পুরুষেরা কানে দুল পরলে স্পার্ম কাউন্ট চোখে পড়ার মতো বৃদ্ধি পায়। ফলে বাচ্চা হওয়ার ক্ষেত্রে কোনও অসুবিধা হয় না।
৪. দৃষ্টিশক্তির উন্নতি: আকুপাংচারের নিয়ম অনুযায়ী, কানের মধ্য অংশের সঙ্গে সরাসরি চোখের যোগ থাকে। এই কারণেই কানের এই অংশে দুল পরলে দৃষ্টিশক্তির উন্নতি ঘটতে শুরু করে।
৫. শ্রবণ ক্ষমতা বৃদ্ধি: কানের ছিদ্রে যে আকুপাংচার পয়েন্ট থাকে, তাকে মাস্টার সেন্সর এবং মাস্টার সেরেব্রাল বলা হয়ে থাকে। কানের এই অংশটিই আমাদের শ্রবণ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। সেই কারণেই কানে দুল পরলে শ্রবণশক্তির উন্নতি ঘটে। শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞদের মতে কানে দুল পরলে ধনুষ্টঙ্কার রোগে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা হ্রাস পায়।
সুতরাং, ফ্যাশন আর ঐতিহ্যের পেছনে যে প্রাচীন জ্ঞান ও বিজ্ঞান লুকিয়ে আছে, এই তথ্যগুলো তারই প্রমাণ। এই অলঙ্কারগুলো শুধু সৌন্দর্যের প্রতীক নয়, সুস্থ জীবনের অনুষঙ্গও বটে।