পুরুষও কি গর্ভবতী হতে পারেন? ‘কুভাড সিনড্রোম’ নিয়ে চিকিৎসকদের বিস্ফোরক তথ্য!

গর্ভধারণ মানেই কেবল নারীর শারীরিক পরিবর্তন—এই ধারণা এবার ভাঙছে। চিকিৎসাবিজ্ঞান বলছে, বহু পুরুষ তাদের সঙ্গীর সন্তানসম্ভবা হওয়ার সময় অদ্ভুত কিছু শারীরিক ও মানসিক লক্ষণ অনুভব করেন, যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে বলা হয় ‘কুভাড সিনড্রোম’ বা ‘সহানুভূতিশীল গর্ভাবস্থা’।
ফরাসি শব্দ ‘কুভাড’ থেকে আসা এই সিনড্রোমের অর্থ হলো ‘লালন করা’। সঙ্গী সন্তানসম্ভবা হলে হবু বাবাদের অনেকেরই অকারণ বমি ভাব, খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন, হঠাৎ মেজাজের ওঠানামা, ওজন বৃদ্ধি, এমনকি ঘুমের সমস্যার মতো লক্ষণ দেখা দেয়। এটি কোনো রোগ নয়, বরং হবু বাবার মানসিক ও শারীরিক এক অদ্ভুত সংযোগ।
কেন এমন হয়? গবেষকরা এর পেছনে তিনটি মূল কারণ খুঁজে পেয়েছেন। প্রথমত, বাবা হওয়ার উত্তেজনা ও দায়িত্ববোধ থেকে তৈরি মানসিক চাপ শরীরে প্রভাব ফেলে। দ্বিতীয়ত, সঙ্গীর প্রতি গভীর সহানুভূতি বা ‘কমপ্যাথি’। প্রিয় মানুষের প্রতিটি কষ্ট অনুভব করতে গিয়ে অনেক পুরুষ অবচেতনভাবে নিজের শরীরে সেই লক্ষণগুলো তৈরি করেন। তৃতীয়ত, কিছু গবেষণায় দেখা গেছে যে, হবু বাবাদের শরীরে কর্টিসল ও প্রোল্যাকটিনের মতো হরমোনের সূক্ষ্ম পরিবর্তন ঘটে, যা খিদে বা ঘুমের ছন্দ বদলে দেয়।
ইতিহাসের পাতায় দেখা যায়, বিভিন্ন সংস্কৃতিতে বাবারা সন্তান জন্মের সময় প্রতীকীভাবে গর্ভাবস্থার আচরণ অনুকরণ করতেন। আজকের দিনে সেটিই কুভাড সিনড্রোম হিসেবে প্রকাশিত হচ্ছে। সাধারণত গর্ভাবস্থার শুরুতে এবং শেষের দিকে এই লক্ষণগুলো বেশি দেখা যায়, যা শিশুর জন্মের পর আপনাআপনিই মিলিয়ে যায়। এটি প্রমাণ করে, সন্তান আগমনের আনন্দ ও যন্ত্রণার পথচলা কেবল মায়ের একার নয়, বাবারাও তা শরীরের গভীরে অনুভব করেন।