পিত্তথলিতে পাথর? এই ৬ উপসর্গ দেখলে আর ফেলে রাখবেন না!

গলব্লাডার বা পিত্তথলি আমাদের শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। লিভারের পাশে থাকা এই ছোট থলিটি থেকে নিঃসৃত পিত্তরস খাবার হজমে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তবে অনেকেই গলব্লাডারের কার্যকারিতা সম্পর্কে অবগত নন এবং পিত্তথলিতে পাথর জমার সমস্যায় ভোগেন। চিকিৎসকদের মতে, রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বৃদ্ধি পেলে বা অতিরিক্ত পরিমাণে পিত্তরস জমা হলে গলব্লাডারে পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

তবে কিছু সাধারণ উপসর্গ দেখেই একজন সাধারণ মানুষও আঁচ করতে পারবেন যে তার গলব্লাডারে পাথর জমেছে কি না। যেকোনো স্বাস্থ্য সমস্যায় দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অবশ্যকর্তব্য। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই ৬টি উপসর্গ, যা গলব্লাডারে পাথর জমার ইঙ্গিত দিতে পারে:

১) পেটের উপরের দিকে ব্যথা: যদি মাঝেমধ্যেই পেটের উপরের দিকে, বিশেষ করে ডান দিকে তীব্র ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে সতর্ক হওয়া উচিত। গলব্লাডারে পাথর থাকার কারণে এই ধরনের ব্যথা হতে পারে।

২) খাওয়ার পর পেট ব্যথা: কোনো কিছু খাওয়ার পরে যদি পেট ব্যথা শুরু হয়, বিশেষ করে দুপুরে ভারী খাবার গ্রহণের পর বিকালের দিকে যদি পেট ব্যথা অনুভব করেন, তবে এটি গলব্লাডারে পাথর জমার কারণে হতে পারে।

৩) বড় শ্বাস নিলে ব্যথা: যদি গভীরভাবে শ্বাস নেওয়ার পর পেটে ব্যথা অনুভব করেন, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এটি গলব্লাডারের সমস্যার একটি লক্ষণ হতে পারে।

৪) হঠাৎ পেট ব্যথা: কোনো সুস্পষ্ট কারণ ছাড়াই যদি হঠাৎ করে পেটে তীব্র ব্যথা শুরু হয়, তবে গলব্লাডারে পাথরের কারণে এমনটা ঘটা অস্বাভাবিক নয়।

৫) জ্বর ও বমি: চিকিৎসকদের মতে, যদি জ্বরের পাশাপাশি বমি হওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে আপনার গলব্লাডারে পাথর হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

৬) তৈলাক্ত খাবারে সমস্যা: যদি আপনার অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার গ্রহণের অভ্যাস থাকে এবং এই ধরনের খাবার খাওয়ার পরই নিয়মিত পেটে ব্যথা শুরু হয়, তাহলে অবশ্যই সতর্ক হোন। এটি গলব্লাডারে পাথর থাকার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত।

চিকিৎসকরা আরও জানিয়েছেন, ৪০ বছর বয়স পেরোনোর পর গলব্লাডারে পাথরের বিষয়ে আরও বেশি সতর্ক থাকা উচিত। এছাড়াও, খুব অল্প সময়ের মধ্যে যদি শরীরের ওজন দ্রুত হ্রাস বা বৃদ্ধি পায়, তাহলেও সাবধানতা অবলম্বন করা জরুরি। উপরোক্ত কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ নিন এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হন। দ্রুত রোগ নির্ণয় এবং সঠিক চিকিৎসার মাধ্যমে গলব্লাডারের পাথরজনিত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।