পিঠের ব্যথা: অফিসে একটানা বসে কাজ? মুক্তি পেতে রইল কার্যকরী উপায়!

একটানা দীর্ঘক্ষণ অফিসে বসে কাজ করার ফলে পিঠে ব্যথা এখন অনেকেরই নিত্যসঙ্গী। আমাদের পিঠের পেশি, লিগামেন্ট, জয়েন্ট বা হাড়ের কার্যকারিতা ব্যাহত হলেই এই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়। তবে শুধু দীর্ঘক্ষণ বসে থাকাই নয়, অতিরিক্ত পরিশ্রম, কোনো চোট-আঘাত বা আর্থারাইটিসের মতো সমস্যাও পিঠে ব্যথার কারণ হতে পারে। কারণ যাই হোক না কেন, এই অস্বস্তিকর ব্যথা থেকে মুক্তি পেতে কিছু সহজ উপায় অবলম্বন করা যেতে পারে।
দ্রুত আরাম পেতে যা করবেন
ঠান্ডা সেঁক: শরীরে কোনো অঙ্গে ব্যথা মানেই সেখানে প্রদাহ বা ইনফ্লামেশন হয়েছে। এই প্রদাহ কমানোর জন্য আইস প্যাক অত্যন্ত কার্যকর। দিনে দু’ থেকে তিনবার অন্তত ২০ মিনিটের জন্য পিঠে আইস প্যাক ব্যবহার করলে নিশ্চিতভাবে আরাম মিলবে। দু’দিন পর ব্যথা কিছুটা কমলে গরম সেঁক ব্যবহার করতে পারেন।
স্ট্রেচিং: ব্যায়াম করার ইচ্ছে না থাকলেও প্রতিদিন স্ট্রেচিং করা খুবই জরুরি। এটি রক্ত চলাচল বাড়াতে সাহায্য করে এবং পেশি সচল রাখে। যোগব্যায়াম স্ট্রেচিংয়ের জন্য খুব ভালো। বাড়িতেও কিছু সাধারণ স্ট্রেচিং করতে পারেন:
ঘুম থেকে ওঠার পর বিছানা ছাড়ার আগেই হাত দুটোকে টানটান করে মাথার উপর তুলে দিন। পায়ের পাতা ঠেলে যত দূরে পারেন নিয়ে যান এবং যতক্ষণ সম্ভব ধরে রাখুন।
সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে হাত মাথার উপর তুলে ধীরে ধীরে নামিয়ে পায়ের পাতা ছুঁতে চেষ্টা করুন, খেয়াল রাখবেন পা যেন না ভাঙে।
সর্বাঙ্গাসন এবং উষ্ট্রাসনও পিঠের জন্য উপকারী।
সঠিক ভঙ্গিমা (পোশ্চার): চেয়ারে বসার সময় পিঠ টানটান করে সোজা হয়ে বসুন। সামনের দিকে ঝুঁকে বা কুঁজো হয়ে বসলে পিঠের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। কাঁধ সোজা রাখুন এবং পেলভিসের উপর বেশি চাপ দেবেন না। এই বিষয়গুলি মেনে চললে পিঠের ব্যথা অনেকাংশেই এড়ানো সম্ভব।
জুতো বদল: পিঠে ব্যথা শুরু হলে একবার নিজের জুতো বদলে দেখুন। যারা সবসময় স্নিকার্স পরেন, তারা আরামদায়ক হিলে পা গলিয়ে দেখতে পারেন। আবার যারা হিল বা ফ্ল্যাট পরেন, তারা স্নিকার্স ব্যবহার করে দেখতে পারেন। টানা দু-তিন দিন নতুন স্টাইলের জুতো ব্যবহার করে যদি আরাম মেলে, তাহলে বুঝতে হবে সমস্যার মূলে ছিল জুতো।
স্ট্রেস কমান ও ঘুম বাড়ান: স্ট্রেস বা মানসিক চাপ শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ব্যথা সৃষ্টি করতে পারে। তাই স্ট্রেস কমানো এবং পর্যাপ্ত ঘুমের উপর জোর দিতে হবে। সোজা হয়ে শুতে পারলে সবচেয়ে ভালো হয়। যারা পাশ ফিরে শুতে অভ্যস্ত, তারা পায়ের ফাঁকে একটি বালিশ রাখার ব্যবস্থা করতে পারেন। এতে মেরুদণ্ড সোজা থাকে এবং পিঠের উপর চাপ কমে।