পানের সঙ্গে মেশানো উপাদান ডেকে আনছে ভয়ঙ্কর বিপদ!

সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ পান। অতিথি আপ্যায়ন থেকে শুরু করে ধূমপানের বিকল্প—নানা কারণেই পানের প্রচলন রয়েছে আমাদের সমাজে। এমনকী, এমন মানুষও আছেন যাদের অন্য কিছু না হলেও পান চাই-ই চাই। পানের প্রতি এই আসক্তি ডেকে আনতে পারে ভয়াবহ বিপদ—এমনটাই জানাচ্ছেন ক্যান্সার গবেষক ও চিকিৎসকরা। পানের সঙ্গে মেশানো বিভিন্ন উপাদানই এর মূল কারণ।

গবেষকদের মতে, পানের নিজস্ব কিছু গুণাগুণ রয়েছে। এটি হজমশক্তি বাড়াতে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। তবে যখন এর সঙ্গে চুন, সুপারি, জর্দা, খয়েরের মতো জিনিস মেশানো হয়, তখনই তা শরীরে ক্যান্সারের ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

আন্তর্জাতিক ক্যান্সার গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইএআরসি-এর গবেষণা অনুযায়ী, যারা তামাকজাতীয় দ্রব্য, চুন, সুপারি ও খয়ের দিয়ে পান খান, অন্যদের তুলনায় তাদের ওরাল ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় পাঁচ গুণ বেশি! এই সমীক্ষা আরও জানায়, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় মশলা ও জর্দা দিয়ে পান খাওয়ার প্রবণতা সবচেয়ে বেশি। ফলস্বরূপ, বিশ্বে ওরাল ক্যান্সারে আক্রান্ত মোট রোগীর ৫৮ শতাংশই এই অঞ্চলের বাসিন্দা।

গবেষণায় আরও উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। সুপারি, চুন ও জর্দা দিয়ে পান খেলে মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় দশ গুণ (৯.৯ গুণ) পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। এমনকি, জর্দা ছাড়া শুধু চুন, সুপারি ও খয়ের ব্যবহার করলেও ক্যান্সারের ঝুঁকি প্রায় আট গুণ (৮.৪ গুণ) বেড়ে যায়। এছাড়াও, পান পাতায় ‘সালমোনেলা’ নামক ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া বাসা বাঁধতে পারে, যা পেটের বিভিন্ন রোগের কারণ।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, চুনে প্যারা অ্যালোন ফেনল নামক একটি উপাদান পাওয়া যায়। এই উপাদান মুখে ঘা বা আলসার সৃষ্টি করে, যা ধীরে ধীরে ক্যান্সারে রূপান্তরিত হতে পারে। অন্যদিকে, কাঁচা সুপারিতে থাকে উচ্চমাত্রার সাইকোঅ্যাকটিভ এলকালয়েড। এটি শরীরে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি করে, যার ফলে শরীর গরম লাগতে পারে এবং ঘাম হতে পারে। এছাড়াও, সুপারি হাঁপানি এবং উচ্চ রক্তচাপের সমস্যাও বাড়াতে পারে।

অতএব, গবেষক ও বিশেষজ্ঞদের অভিমত, শুধু পান পাতা তেমন ক্ষতিকর না হলেও, এর সঙ্গে ব্যবহৃত আনুষাঙ্গিক উপাদানগুলি মুখের ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেক বাড়িয়ে দেয়। তাই, পানের অভ্যাস ত্যাগ করা অথবা এর সঙ্গে ক্ষতিকর উপাদান মেশানো থেকে বিরত থাকা বুদ্ধিমানের কাজ।