নিরামিষ ভোজনের উপকারিতা: স্বাস্থ্য ও ফিটনেসের চাবিকাঠি?

ইন্টারনেট এবং বিভিন্ন পত্রপত্রিকা এখন নিরামিষ ভোজনের উপযোগিতা সংক্রান্ত অজস্র তথ্যে পরিপূর্ণ। বহু পুষ্টিবিদ স্থূলতা কমাতে নিরামিষ খাবার গ্রহণের উপর জোর দিচ্ছেন। বলিউড তারকারাও এই পথে হেঁটেছেন। আলিয়া ভাট, সোনম কাপুর, সোনাক্ষী সিনহা, অনুষ্কা শর্মা, কঙ্গনা রানাউতের মতো বহু অভিনেত্রী আমিষ ত্যাগ করে শারীরিকভাবে অনেক বেশি সুস্থ অনুভব করছেন বলে জানিয়েছেন।
অনেকেই হয়তো ভাবেন যে হঠাৎ করে মাছ-মাংস-ডিম খাওয়া ছেড়ে দিলে শরীর দুর্বল হয়ে পড়বে। তবে এই ধারণা ভুল। কারণ নিরামিষাশীদের তালিকায় রাজকুমার রাও, জন আব্রাহাম, শাহিদ কাপুর এবং আমির খানের মতো তারকারাও রয়েছেন। এঁদের শারীরিক সক্ষমতা বা ফিটনেস নিয়ে নিশ্চয়ই কারোর সন্দেহ নেই! এমনকি আলিয়া, সোনম, কঙ্গনা এবং আমির তো দুধ ও দুগ্ধজাত খাবারও (যেমন ঘি, মাখন বা মিষ্টি) খান না – তাঁরা পুরোপুরি ভেগান হয়ে গিয়েছেন!
বিশেষজ্ঞদের মতে, যাঁরা খাদ্যতালিকায় কেবলমাত্র শাকসবজি, ফলমূল ও শস্য রাখেন, তাঁদের ওজন দ্রুত কমে এবং শরীরে অতিরিক্ত মেদ জমতে পারে না। এছাড়াও, তাঁরা দীর্ঘকাল রোগমুক্ত ও সুস্থ জীবন যাপন করেন। তবে অতিরিক্ত ভাজাভুজি, আচার বা চাটনির উপর নির্ভরশীলতা তৈরি করলে এর সুফল নাও পাওয়া যেতে পারে। সাধারণভাবে নিরামিষ খাবার বেশ পুষ্টিকর। যাঁরা নিয়মিত হেভি ওয়েট ট্রেনিং করেন, সচেতনভাবে খাবার খেলে তাঁদের শরীরেও পুষ্টির অভাব হয় না। ২০১৬ সালে নিরামিষভোজী ক্রীড়াবিদদের পারফরম্যান্স নিয়ে একটি গবেষণা চালানো হয়েছিল। সেই গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে তাঁদের শক্তি বা স্ট্যামিনা আমিষাশীদের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়।
কিছুদিন আগে হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় ১ লক্ষ ২৫ হাজার প্রাপ্তবয়স্কের উপর সমীক্ষা চালানো হয়। দেখা যায়, যাঁরা নিরামিষ খাবার খান এবং প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় প্রচুর ফল ও সবজি রাখেন, তাঁদের পক্ষে ওজন কমানো এবং নির্দিষ্ট ওজন ধরে রাখা অনেক সহজ হয়েছে। তাঁদের হজমক্ষমতা ও মেটাবলিজমও সাধারণত ভালো থাকে। তবে নিরামিষ খাবারে যদি ময়দার মতো রিফাইনড কার্বোহাইড্রেট, মিষ্টি বা ট্রান্স ফ্যাট বেশি থাকে, তাহলে ওজন দ্রুত বাড়তে পারে।
কিছু পুষ্টিবিদ মনে করেন যে প্রাণিজ প্রোটিনের চেয়ে উদ্ভিজ্জ প্রোটিন মানবদেহের জন্য অনেক বেশি উপকারী এবং এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব নেই। ফল ও সবজিতে প্রাকৃতিক জলের পরিমাণ বেশি থাকায় তা দ্রুত পেট ভরায়। সেইসঙ্গে নিরামিষে স্যাচুরেটেড ফ্যাটের পরিমাণও আমিষের চেয়ে কম থাকে। মরশুমি ফল ও সবজিতে ভিটামিন ও খনিজ পদার্থেরও কোনো অভাব নেই। এই সমস্ত কারণের সম্মিলিত প্রভাবে ওজন কমা সম্ভব। একইসঙ্গে স্থূলতা, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের ঝুঁকিও হ্রাস পায়।
সুতরাং, আপনার জন্য কোনটি মেনে চলা সহজ হবে, তা বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিন। এমন একটি ডায়েট বেছে নিন যা আপনি দীর্ঘকাল ধরে অনুসরণ করতে পারবেন।
কিছু টিপস:
সব সময় ভালো মানের ফল ও সবজি কিনুন। শুধু দেখতে ভালো হলেই খাদ্যগুণ বেশি হবে, এমন ধারণা ভুল।
স্থানীয় ও মরশুমি উপাদান দিয়ে আপনার খাবারের থালি সাজান। অসময়ের বিদেশি আপেল বা দামি সবজি খাওয়ার প্রয়োজন নেই। অনেক সময় সেগুলিকে সতেজ দেখানোর জন্য রাসায়নিক ব্যবহার করা হয়।
অবশ্যই সমস্ত ফল ও শাকসবজি ভালোভাবে ধুয়ে নিন। সম্ভব হলে পটাশিয়াম পারম্যাঙ্গানেটের জল ব্যবহার করতে পারেন। এতে রাসায়নিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমবে।
খাবার তালিকায় অতিরিক্ত ভাজাভুজি যোগ করবেন না। এতে খাবারের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়ে যায়।