নারী কি তবে মায়ায় বাঁধা? নাকি অন্য কিছু টানে তাকে?

নারী কি তবে মায়ায় আটকায়? এই প্রশ্নটি তুললে অনেক পুরুষই হয়তো তীব্র প্রতিবাদ জানাবেন। কারণ, অনেক মায়া, অনেক ভালোবাসা দিয়েও নিজেদের প্রিয়তমাকে ধরে রাখতে পারেননি, এমন পুরুষের সংখ্যা নেহাত কম নয়। তাদের কণ্ঠে শোনা যাবে প্রতিবাদের সুর। তারা বলবেন, নারী যদি মায়াতেই বাঁধা পড়ে, তবে তাদের কী দোষ ছিল? কেন তারা তাদের ভালোবাসার মানুষটিকে ধরে রাখতে পারলেন না? কেন সেই নারী তাদের ছেড়ে চলে গেল? তাদের মতে, নারী মায়াতেও আটকায় না। তাহলে আসলে কীসে আটকায়?
টাকা কি নারীকে বেঁধে রাখতে পারে?
টাকা যে নারীকে ধরে রাখতে পারে না, তার অসংখ্য প্রমাণ আমাদের চোখের সামনেই রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সামাজিক মাধ্যমে ভেসে বেড়ানো বহু বিচ্ছেদের খবরই এর জ্বলন্ত উদাহরণ। এর আগেও বিশ্বের বহু ধনী ব্যক্তির বিবাহ বিচ্ছেদের সাক্ষী থেকেছে এই পৃথিবী। তাই স্পষ্টতই বোঝা যায়, অর্থ এখানে মুখ্য ভূমিকা পালন করে না। আসলে, মানুষ সাধারণত আর্থিক দৈন্যতার জন্য একে অপরের সঙ্গ ছাড়ে কম, বরং মানসিক দরিদ্রতার কারণেই বিচ্ছেদের ঘটনা বেশি ঘটে। তবে, যাদের বিচ্ছেদ হয়, তাদের সকলের মধ্যেই মানসিক দরিদ্রতা রয়েছে, এমনটা ভাবাও ভুল।
সৌন্দর্য কি নারীর বন্ধন?
সৌন্দর্য নিঃসন্দেহে মুগ্ধতা জাগাতে পারে। সেই মুগ্ধতা থেকে জন্ম নিতে পারে ভালোবাসা। এখানে নারীর কোনো দোষ নেই। একজন সুদর্শন পুরুষের প্রতি আকৃষ্ট হওয়া, তাকে ভালোবাসা বা জীবনসঙ্গী হিসেবে চাওয়া স্বাভাবিক। তবে, আমরা প্রায়ই সিনেমার বহু সুদর্শন নায়কের সংসার ভেঙে যাওয়ার ঘটনা দেখি। অন্যদিকে, তুলনামূলকভাবে কম সুদর্শন কোনো খলনায়কের সংসার দিব্যি টিকে থাকে। তাই দেখা যাচ্ছে, বাহ্যিক সৌন্দর্যও নারীকে চিরস্থায়ীভাবে বেঁধে রাখতে পারে না।
তাহলে নারী আসলে কীসে আটকায়?
‘নারী কীসে আটকায়’—এই প্রশ্নের মধ্যেই সম্ভবত আসল সমস্যা লুকিয়ে রয়েছে। নারী বা পুরুষ—আসলে কাউকেই জোর করে আটকে রাখা যায় না। যখন কোনো ব্যক্তি বুঝতে পারে যে তাকে বেঁধে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে, ঠিক তখনই সে মুক্তির পথ খুঁজতে শুরু করে। একটি উদাহরণ দেওয়া যাক। ধরুন, আপনি একটি বাড়িতে আছেন এবং যখন খুশি দরজা খুলে বাইরে যেতে পারেন। এমন পরিস্থিতিতে হয়তো আপনি দিনের পর দিন বাইরে না গিয়েও থাকতে পারবেন। কিন্তু যদি আপনি জানেন যে সেই একই বাড়িতে আপনাকে আটকে রাখা হয়েছে এবং চাইলেও আপনি বের হতে পারবেন না, ঠিক তখনই আপনি মুক্তির জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠবেন।
তাই, ‘নারী কীসে আটকায়’—এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা বন্ধ করুন। মানুষ আসলে বাঁধন পছন্দ করে না। যে থাকতে চায়, সে কোনো না কোনো অজুহাত খুঁজে থেকে যায়। আর যে চলে যেতে চায়, সেও কোনো না কোনো কারণ দেখিয়ে ঠিকই চলে যাবে। আসল কথা হলো, পারস্পরিক সম্মান, বোঝাপড়া এবং ভালোবাসা—এই তিনটি স্তম্ভের উপর ভিত্তি করেই একটি সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে, কোনো বাঁধনের জোরে নয়।