দামি স্মার্টফোনও স্লো? গতি বাড়ানোর সহজ উপায় জেনে নিন!

নতুন ঝকঝকে স্মার্টফোন কেনার কিছুদিন পর থেকেই অনেকের অভিযোগ থাকে ফোন স্লো হয়ে যাচ্ছে। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোন যদি ধীরগতির হয়ে কাজ করতে অসুবিধা সৃষ্টি করে, তবে চিন্তা নেই! এটি ফাস্ট করার কিছু সহজ উপায় রয়েছে।

প্রথমেই, আপনার ফোনটি রিস্টার্ট করুন। অন্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার আগে, ফোনটি শাট ডাউন করে কিছুক্ষণ পর আবার চালু করুন অথবা সরাসরি রিস্টার্ট করুন। অনেক সময় সাধারণ কিছু ত্রুটির কারণে ফোন স্লো হয়ে যায়, যা রিস্টার্টের মাধ্যমে ঠিক হয়ে যায়।

এরপর নিশ্চিত করুন আপনার সিস্টেমের আপডেট। ফোন স্লো হয়ে যাওয়ার একটি কারণ হতে পারে পুরোনো অপারেটিং সিস্টেম। আপনার ফোনে সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড সফটওয়্যার ইনস্টল করা আছে কিনা, তা দেখতে Settings > About device > Software update-এ গিয়ে চেক করুন। কোনো আপডেট উপলব্ধ থাকলে তা ইনস্টল করে নিন।

যেসব পুরোনো ফটো, অ্যাপ এবং অন্য কিছুর প্রয়োজন নেই, সেগুলো মুছে ফেলুন। পুরোনো ছবি, ভিডিও বা মিউজিক ফাইল ডিলিট করতে ভুলে যাওয়া স্বাভাবিক। তবে আপনার ফোনের গতি ফিরিয়ে আনতে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এছাড়াও, অনেক অ্যাপস ব্যাকগ্রাউন্ডে চলতে থাকার কারণে ফোনের গতি কমে যেতে পারে। অপ্রয়োজনীয় অ্যাপস ফোনের অনেকটা জায়গা দখল করে রাখে, তাই সেগুলো আনইনস্টল করাই বুদ্ধিমানের কাজ।

অ্যাপ্লিকেশন ক্যাশে সাফ করুন। আপনার ফোন বিভিন্ন অ্যাপ্লিকেশনের সাথে যুক্ত কিছু ছবি ও অস্থায়ী ডেটা সংরক্ষণ করে রাখে, যাতে অ্যাপ দ্রুত ওপেন হয়। এটি সাধারণত একটি ভালো ফিচার হলেও, মাঝে মাঝে এই ক্যাশে জমে গিয়ে ফোন স্লো করে দিতে পারে। ক্যাশে ক্লিয়ার করার জন্য Settings > Storage > Cached data-তে গিয়ে ক্লিয়ার করুন।

যদি আপনার ফোনটি পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোন হয় এবং নতুন আপডেট আর না পায়, তবে কাস্টম রম ইনস্টল করার চেষ্টা করতে পারেন। এটি আপনার ফোনে সাম্প্রতিক সফটওয়্যার চালানোর অনুমতি দেবে এবং ফোনের পারফরম্যান্স উন্নত করতে সাহায্য করবে। তবে এটি একটি জটিল প্রক্রিয়া এবং অভিজ্ঞ ব্যবহারকারীদের জন্য উপযুক্ত।

ক্রোম ব্রাউজার স্লো হয়ে গেলে, সেটি ফাস্ট করার একটি উপায় আছে। ক্রোম ব্রাউজার ওপেন করে নতুন ট্যাবে chrome://flags/#max-tiles-for-interest-area টাইপ করুন এবং এন্টার চাপুন। একটি মেন্যু আসবে, যেখানে আপনি মেমোরি ব্যবহারের পরিমাণ পরিবর্তন করতে পারবেন। ডিফল্ট “128” এর জায়গায় “512” নির্বাচন করুন।

প্রসেসিং ক্ষমতা বেশি ব্যবহার করে এমন অ্যাপ্লিকেশনের দিকে খেয়াল রাখুন। অনেক সময় কোনো নির্দিষ্ট অ্যাপের কারণে ফোন অস্বাভাবিক আচরণ করতে পারে। Watchdog Task Manager-এর মতো অ্যাপ ব্যবহার করে আপনি জানতে পারবেন কোন অ্যাপ কতটা রিসোর্স ব্যবহার করছে এবং সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

অ্যানিমেশন বন্ধ করুন। আপনার অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গতি বাড়াতে অ্যানিমেশন বন্ধ করতে পারেন। অ্যান্ড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমে অ্যানিমেশন সেটিংস পরিবর্তন করার জন্য প্রথমে Settings > About phone-এ গিয়ে Build Number-এ সাতবার ট্যাপ করুন। এরপর সিস্টেম সেটিংসে “Developer options” মেনু দেখতে পাবেন। এই মেনুতে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale-এর অপশনগুলো .5x-এ সেট করুন অথবা বন্ধ করে দিন।

ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা নিষ্ক্রিয় করুন। ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার আপনার ফোন স্লো হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে। এটি সীমিত বা বন্ধ করলে ফোনের গতি বাড়বে এবং আপনার ডেটা ব্যবহারও কমবে। কোন অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ড ডেটা ব্যবহার করছে, তা দেখতে Settings > Data Usage-এ গিয়ে চেক করতে পারেন।

যদি উপরের কোনো পদ্ধতিতেই কাজ না হয়, তবে শেষ উপায় হিসেবে ফ্যাক্টরি রিসেট করার চেষ্টা করুন। তবে এর আগে আপনার গুরুত্বপূর্ণ ডেটা, অ্যাপ্লিকেশন, ফটো ও মিউজিকের ব্যাকআপ অবশ্যই নিয়ে রাখুন। ফ্যাক্টরি রিসেট আপনার ফোনটিকে কেনার সময়ের অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এর জন্য Settings > Backup > Reset > Factory reset-এ গিয়ে রিসেট করুন।

এই সহজ উপায়গুলো অবলম্বন করে আপনি আপনার পুরোনো অ্যান্ড্রয়েড ফোনের গতি অনেকটাই বাড়াতে পারবেন এবং মসৃণ অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারবেন।