ত্বক ভালো রাখার জন্য স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিকর খাবার খাওয়ার পাশাপাশি কিছু বাড়তি যত্ন নেওয়াও প্রয়োজন। ত্বকে ফেসিয়াল করলে তা ত্বককে সুন্দর ও উজ্জ্বল করতে কাজ করে। সেইসঙ্গে ত্বক কিছু প্রয়োজনীয় পুষ্টিও পায়। ফেসিয়াল করার চর্চা নারীদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। তবে ফেসিয়াল কতদিন পর পর করতে হয়, সে সম্পর্কে অনেকেরই স্পষ্ট ধারণা নেই। কেউ হয়তো ঘন ঘন ফেসিয়াল করেন, কেউ আবার অনিয়মিত।
চলুন জেনে নেওয়া যাক ফেসিয়াল করার সঠিক সময় ও পদ্ধতি:
📅 ফেসিয়াল কতদিন পর পর করা উচিত?
আপনি যদি মাসে দুইবার অর্থাৎ প্রতি ১৫ দিন পর পর ফেসিয়াল করেন, তবে ত্বক পরিষ্কার থাকবে।
-
উপকারিতা: এই অভ্যাসে ত্বকের মৃত কোষ দূর হয়ে উজ্জ্বলতা বাড়ে। এটি ত্বকের পোরস পরিষ্কার রাখতে কাজ করে এবং হোয়াইটহেডস ও ব্ল্যাকহেডস দূর করে।
-
আর্দ্রতা: নিয়মিত ফেসিয়াল ত্বকের শুষ্কতা দূর করে এবং আর্দ্রতা বজায় রাখে।
-
সতর্কতা: তবে আপনার ত্বক যদি খুবই সেনসিটিভ হয়, সেক্ষেত্রে ফেসিয়াল করার আগে অবশ্যই বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
✅ ফেসিয়াল যে কারণে প্রয়োজন (স্কিনকেয়ার ট্রিটমেন্ট)
ফেসিয়াল হলো এক ধরনের স্কিনকেয়ার ট্রিটমেন্ট, যা সম্পন্ন করতে আধ ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টার মতো সময় লাগে। ত্বক ভালো রাখতে এই ট্রিটমেন্ট করানো হয়।
-
এক্সফোলিয়েশন: এক্সফোলিয়েশনের সাহায্যে ত্বকের মৃত কোষ সরিয়ে ফেলা হয়।
-
আর্দ্রতা: সুদিং মাস্ক এবং ক্রিমের সাহায্যে সঠিক আর্দ্রতার জোগান দেওয়া হয়।
-
মাসাজ: ফেসিয়াল মাসাজ ত্বক টানটান রাখতে সাহায্য করে এবং রক্ত সঞ্চালন বাড়ায়।
💆 পার্লারে যেভাবে ফেসিয়াল করা হয়
১. ক্লিনজিং: ক্লিনজারের সাহায্যে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া হয়। ২. স্ক্রাবিং ও ট্যান দূর: স্ক্রাব ব্যবহার করে ত্বক এক্সফোলিয়েট করা হয় এবং ট্যান তোলার জন্য একটি মাস্ক লাগানো হয়। ৩. মাসাজ: ফেস মাসাজ করা হয়। এই সময়ে ত্বকের রিল্যাক্সেশনের দিকে নজর দেওয়া হয়। মালিশের পদ্ধতিতে ফেস কন্টোরিং করা হয়। সাধারণত ২০ মিনিট ধরে এই মাসাজ করা হয়। ৪. প্যাক ও ময়েশ্চারাইজিং: এবার মুখ পরিষ্কার করে ফেস প্যাক লাগানো হয়। মুখ আবার পরিষ্কার করে নেওয়া হয় এবং ক্রিম ও সানস্ক্রিন লাগানো হয়।
🏠 বাড়িতে ফেসিয়াল করবেন যেভাবে
পার্লারে যেতে না পারলে বাড়িতেও একই ধরনের যত্ন নেওয়া যেতে পারে:
১. পরিষ্কার: ফেসওয়াশ দিয়ে মুখ পরিষ্কার করে নিন। ২. এক্সফোলিয়েশন: তারপর স্ক্রাব ব্যবহার করে এক্সফোলিয়েট করে নিন। ৩. স্টিম: এবার ফেস স্টিম নিন (৫-১০ মিনিট)। ৪. মাসাজ: অ্যালোভেরা জেলের সাহায্যে ভালো করে মুখ মাসাজ করে নিন। অন্তত ১০ মিনিট মাসাজ করবেন। ৫. প্যাক: এবার মুখ পরিষ্কার করে নিন এবং ফেসপ্যাক লাগান। ১০ মিনিট অপেক্ষা করে মুখ ধুয়ে ফেলুন। ৬. টোনার ও ময়েশ্চারাইজার: সবশেষে টোনার ও ময়েশ্চারাইজার লাগিয়ে নিন।